হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রে কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে যুদ্ধ শুরুর পর অন্যতম বড় হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই হামলায় প্রথমবারের মতো শক্তিশালী ‘ওরেশনিক’ হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন। এসব হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ওরেশনিক একটি মাঝারি-পাল্লার হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা পারমাণবিক কিংবা প্রচলিত একাধিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। এর গতি ও গতিপথ এতটাই জটিল যে ইউক্রেনের বিদ্যমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এটি ঠেকানো প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হয়। এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করল রাশিয়া। খবর সিএনএনের।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ক্ষেপণাস্ত্রটি মধ্য ইউক্রেনের বিল্যা সেরকভা শহরের কাছে আঘাত হেনেছে। তিনি বলেন, তারা সত্যিই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। রাশিয়াকে এর শাস্তি পেতেই হবে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা দাবি করেন, ক্ষেপণাস্ত্রে একটি ডামি বা ভুয়া ওয়ারহেড বহন করা হয়েছিল। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস একে ‘রাজনৈতিক ভয় দেখানোর কৌশল’ এবং ‘বেপরোয়া পারমাণবিক হুমকি’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাশিয়ার এই হামলাকে যুদ্ধের ‘বিপজ্জনক নতুন মাত্রা’ বলে উল্লেখ করেছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎসও একে ‘বেপরোয়া উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে নিন্দা জানান এবং ইউক্রেনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাতভর রাশিয়া ৬০০ ড্রোন ও ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর মধ্যে ৬০৪টি লক্ষ্যবস্তু ভূপাতিত করার দাবি করেছে কিয়েভ। তবুও রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। কিয়েভই ছিল এই হামলার প্রধান লক্ষ্য।
এই হামলার আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলার জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন। রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনীয় ড্রোন লুহানস্ক অঞ্চলের রুশ-নিয়ন্ত্রিত স্টারোবিলস্ক শহরের একটি কলেজ ডরমিটরিতে হামলা চালায়, যেখানে অন্তত ১৮ শিশু নিহত হয়েছে।
তবে ইউক্রেন সেই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা শুধুমাত্র সামরিক অবকাঠামো ও সামরিক কাজে ব্যবহৃত স্থাপনাগুলোতেই হামলা চালায়। ইউক্রেন আরও দাবি করেছে, তারা স্টারোবিলস্ক এলাকায় রুশ ‘রুবিকন’ ড্রোন ইউনিটের একটি সদর দপ্তরে আঘাত হেনেছে।
রাতভর হামলার সময় কিয়েভের মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া ৬২ বছর বয়সী নাতালিয়া জভারিচ বলেন, চারদিকে বিস্ফোরণ হচ্ছিল, আকাশে আগুন উড়তে দেখেছি। এটা ছিল ভয়াবহ এক রাত।
জেলেনস্কি পশ্চিমা বিশ্বকে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং অন্যদের এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে মস্কোর এই বৃদ্ধ শাসক অবশেষে ‘শান্তি’ শব্দটি উচ্চারণ করতে বাধ্য হয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক