আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে পাকিস্তানের কাছে হারল ভারত
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’ নিয়ে চলমান একটি মামলার রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক আদালত। পাকিস্তানের ভাগের নদীতে ভারতের দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশাকে চ্যালেঞ্জ করে ১০ বছর আগে মামলা করেছিল পাকিস্তান। নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী সালিশি আদালত (পিসিএ) সেই মামলায় পাকিস্তানের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন। এই রায়ের ফলে ভারত আইনি ও কূটনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা খেল।
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন, সিন্ধু পানি চুক্তি উভয় দেশের জন্যই বাধ্যতামূলক। কোনো দেশ চাইলেই একতরফাভাবে এই চুক্তি বাতিল বা স্থগিত করতে পারবে না। কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার অজুহাত দেখিয়ে ভারত এই চুক্তি যেভাবে স্থগিত করে রেখেছিল, আন্তর্জাতিক আদালত তা অবৈধ ঘোষণা করলেন।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, কাশ্মীরে ভারতের ‘রাতলে’ ও ‘কিশানগঙ্গা’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারত কতটুকু পানি জমা রাখতে পারবে, তার ওপর কঠোর নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন আদালত। ভারত এখন আর নিজের ইচ্ছেমতো বড় বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখতে পারবে না। নদী থেকে পাকিস্তান যাতে তার ন্যায্য পানি পায়, তা ভারতকে নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া প্রকল্প নিয়ে সব ধরণের তথ্য পাকিস্তানকে দিতে বাধ্য থাকবে ভারত।
পাকিস্তানের কৃষি, খাদ্য ও অর্থনীতি পুরোপুরি সিন্ধু নদের ওপর নির্ভরশীল। পাকিস্তান এমনিতেই পানির সংকটে ভুগছে। ভারত উজানে পানি আটকে দিলে পাকিস্তানে খরা দেখা দেবে। তাই এই রায়কে পাকিস্তানের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত যদি আন্তর্জাতিক চুক্তি না মানে, তবে ভবিষ্যতে ভারত নিজেও বিপদে পড়বে। কারণ চীন থেকে যেসব নদী ভারতে এসেছে, ভারত সেখানে ভাটির দেশ। ভারত এখন নিয়ম না মানলে, ভবিষ্যতে চীনও ভারতের পানি আটকে দেওয়ার সুযোগ পাবে।
আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায় চূড়ান্ত এবং ভারত তা মানতে বাধ্য। তাই ভারতকে এখন তাদের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন করতে হবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সাথে পানি সংক্রান্ত সব তথ্য শেয়ার করতে হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক