কর্ণাটকের স্কুলে হিজাব ও পৈতা পরার অনুমতি
ভারতের কর্ণাটক রাজ্য সরকার স্কুল ও প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলোতে ইউনিফর্ম সংক্রান্ত ২০২২ সালের বিতর্কিত আদেশটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা এখন থেকে নির্ধারিত ইউনিফর্মের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ও ধর্মীয় প্রতীক পরিধান করতে পারবে। বুধবার (১৩ মে) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। খবর এনডিটিভির।
নতুন নীতিমালার আওতায় সরকারি, সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব (মাথার স্কার্ফ), পৈতা (পবিত্র সুতা), পাগড়ি বা পেটা, শিবধারা ও রুদ্রাক্ষের মালা পরার অনুমতি পাবে। তবে নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে, এই ধর্মীয় প্রতীকগুলো যেন কোনোভাবেই প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, শিক্ষার্থীদের সহজে চিনে নেওয়ার প্রক্রিয়া (আইডেন্টিফিকেশন) কিংবা ইউনিফর্মের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী না হয়।
আরও পড়ুন : ট্রাম্পের বেইজিং সফরের মধ্যেই তাইওয়ান ইস্যুতে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি শির
আরও পড়ুন : দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত গাড়ি, অথচ মামলার টোকেন এলো ‘হাই স্পিডে’ চালানোর
কর্ণাটক সরকারের নতুন আদেশে বলা হয়েছে, কেবল এই অনুমোদিত ধর্মীয় প্রতীকগুলো ব্যবহারের কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে ক্লাসরুমে প্রবেশ, পরীক্ষা বা কোনো একাডেমিক কার্যকলাপে অংশ নেওয়া থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। একই সঙ্গে, কোনো শিক্ষার্থীকে এই প্রতীকগুলো পরতে বা খুলে ফেলতে বাধ্য করা যাবে না। এছাড়া, জাতীয় বা রাজ্য পর্যায়ের বিশেষ পরীক্ষাগুলোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত ড্রেস কোড বহাল থাকবে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কর্ণাটকের তৎকালীন সরকার ধর্মীয় প্রতীকহীন কঠোর ইউনিফর্ম নীতি চালু করেছিল, যা মূলত হিজাব পরিধানকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার জন্ম দেয়। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী মধু বাঙ্গারাপ্পা সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, গত ২৪ এপ্রিল এক শিশুকে জোরপূর্বক পবিত্র সুতা (পৈতা) খুলে ফেলতে বলা হয়েছিল, যা তার পরিবার ও সমাজকে গভীরভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের মাঝে ধর্মীয় রীতিনীতি বাধা হওয়া উচিত নয়। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত ‘কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়’গুলোর ড্রেস কোড পদ্ধতি পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন : যুদ্ধের সময় কোথায় আত্মগোপনে ছিলেন নেতানিয়াহু, যা জানা গেল
আরও পড়ুন : ৬০ বছর আগের ‘রহস্য’ আবার আলোচনায়
সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দল বিজেপি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। বিজেপি বিধায়ক ভারত শেঠি একে সরকারের ব্যর্থতা আড়ালের চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, ভিএইচপি নেতা ও আইনজীবী গিরিশ ভরদ্বাজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাবের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে হিন্দু শিক্ষার্থীদেরও গেরুয়া চাদর (শল) পরার অনুমতি দিতে হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক