মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কায় কমল স্বর্ণের দাম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতির জোরালো তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। মূলত সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় ও ডলারের মান বাড়ায় মূল্যবান এই ধাতুর বাজার চাপে পড়েছে। খবর রয়টার্সের।
আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামে মন্দা ভাব দেখা দিয়েছে। স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৬৯৪.৫৯ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যান্য ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ০.১ শতাংশ কমে আউন্স প্রতি ৮৬.৬১ ডলারে দাঁড়িয়েছে ও একইভাবে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও ০.১ শতাংশ হারে হ্রাস পেয়েছে।
স্বর্ণের এই দরপতনের পেছনে প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও ডলারের শক্তিশালী অবস্থান কাজ করছে। এপ্রিল মাসে দেশটিতে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার অন্যতম কারণ ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বৃদ্ধি। এই পরিস্থিতির কারণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ এখনই সুদের হার কমাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুদের হার উচ্চ থাকায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের চেয়ে অন্যান্য লাভজনক খাতে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এছাড়া, মার্কিন ডলারের মান এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোয় অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে স্বর্ণ কেনা এখন আগের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় স্বর্ণের দাম প্রায় ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। এদিকে বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন বৈঠকের দিকে কড়া নজর রাখছেন, যা বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যদি কিছুটা ধীর হয়ে আসে, তবে স্বর্ণের দাম আবার বাড়তে পারে। তবে আপাতত উচ্চ সুদের হারের আশঙ্কায় স্বল্প মেয়াদে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা বেশি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক