রাশিয়ায় সীমিত পরিসরে বিজয় দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় স্মরণে মস্কোর রেড স্কয়ারে বার্ষিক ‘ভিক্টরি ডে’ সামরিক কুচকাওয়াজ শুরু করেছে রাশিয়া। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এবারের আয়োজন আগের বছরের তুলনায় অনেক ছোট পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
স্থানীয় সময় আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে রুশ পতাকা বহনকারী সামরিক ইউনিটের মাধ্যমে কুচকাওয়াজ শুরু হয়। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার কথা থাকায় রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত এই ‘ভিক্টরি ডে’কে দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক শক্তি প্রদর্শন ও ইউক্রেন যুদ্ধে জনসমর্থন জোরদারের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন পুতিন। তবে প্রায় দুই দশকের মধ্যে এবারই প্রথম ভারী ট্যাংক, ক্ষেপণাস্ত্র ও বড় সামরিক সরঞ্জাম ছাড়া কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শুধু যুদ্ধবিমানের ঐতিহ্যবাহী ফ্লাইপাস্ট রাখা হয়েছে।
রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান সামরিক পরিস্থিতি এবং ইউক্রেনীয় হামলার আশঙ্কার কারণে অনুষ্ঠান সীমিত করা হয়েছে। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (৮ মে) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তার অনুরোধে রাশিয়া ও ইউক্রেন শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি বন্দি বিনিময়ও হবে বলে জানান তিনি। ট্রাম্প এটিকে যুদ্ধের সমাপ্তির সূচনা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে এক ঘোষণায় বলেন, রাশিয়া যেন বিজয় দিবস পালন করতে পারে, সে জন্য শনিবার রেড স্কয়ারে ইউক্রেনীয় হামলা চালানো হবে না। এর আগে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ ভয় পাচ্ছে যে ৯ মে রেড স্কয়ারের আকাশে ড্রোন দেখা যেতে পারে।
জেলেনস্কির ওই ঘোষণাকে হাস্যকর রসিকতা বলে উড়িয়ে দেন পেসকভ। তিনি বলেন, আমাদের বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই।
এদিকে রুশ কর্তৃপক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইউক্রেন যদি বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তাহলে কিয়েভের কেন্দ্রে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে।
রাশিয়ার পাশাপাশি সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র বেলারুশ ও কাজাখস্তানেও বিজয় দিবস পালন করা হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিল, যা এখনও রুশ জাতীয় স্মৃতিতে গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে আছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক