শুভেন্দুর সহকারী হত্যা : কয়েক সেকেন্ডে মিশন শেষ করেন আততায়ীরা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতা ও সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করেছে দুষ্কৃতকারীরা। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বুধবার (৬ মে) রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ মধ্যমগ্রামের দোলতলায় যে কায়দায় এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে, তাকে ‘পেশাদার কিলিং মিশন’ হিসেবে দেখছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, চন্দ্রনাথ রথের গাড়িটি যখন দোলতলা এলাকা অতিক্রম করছিল, ঠিক তখন একটি ভুয়া নম্বর প্লেট লাগানো গাড়ি আচমকা তার পথ রোধ করে দাঁড়ায়। এরপর কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে চারটি মোটরসাইকেলে আসা আটজন আততায়ী চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে তাকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি চালায়। হামলাকারীরা এতটাই নিপুণ ও ক্ষিপ্র ছিল যে, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে অন্তত চারটি বুলেট চন্দ্রনাথের বুক ও পেট ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়। এরমধ্যে একটি গুলি সরাসরি তার হৃদপিণ্ড ভেদ করে। গুলির শব্দে আশপাশের মানুষ সজাগ হওয়ার আগেই আততায়ীরা তাদের মোটরসাইকেল নিয়ে নিমেষে পালিয়ে যায়।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও হৃদপিণ্ডে গভীর ক্ষত হওয়ার কারণে পথেই তার মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহাপরিচালক সিদ্ধনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কার্তুজ দেখে সন্দেহ করা হচ্ছে, এই মিশনে ‘গ্লক ৪৭এক্স’ এর মতো অত্যন্ত অত্যাধুনিক পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছে। যা সাধারণত ভাড়াটে পেশাদার খুনিদের কাছেই দেখা যায়।
গোয়েন্দারা মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের আগে অন্তত কয়েক দিন ধরে চন্দ্রনাথের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ বা রেকি করা হয়েছিল। খুনিরা জানত ঠিক কোন মোড়ে গাড়িটি আটকালে পালানো সহজ হবে। রাজনৈতিক পালাবদলের এই উত্তাল সময়ে শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই ব্যক্তির এমন নিখুঁত হত্যাকাণ্ড রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
বর্তমানে ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা ভুয়া নম্বর প্লেটের গাড়ি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পেশাদার সেই খুনিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। তবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো অপারেশন শেষ করে উধাও হয়ে যাওয়া এই মিশনের নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে বিজেপি। তবে ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, ৪ মে থেকে এ পর্যন্ত নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় ২০০টি এফআইআর ও ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সূত্র : এনডিটিভি

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক