আমিরাতে ফের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার অভিযোগ, ইরানের অস্বীকার
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। তবে তেহরান এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবারও (৫ মে) দেশটি ইরানের হামলার শিকার হয়েছে। এর আগের দিন পূর্বাঞ্চলীয় ফুজাইরাহতে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার পরে আগুন লাগে এবং অন্তত তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হন। খবর আল জাজিরার।
তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে তারা আমিরাতের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালায়নি।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে সংস্থাটি বলেছে, যদি কোনো অভিযান চালানো হতো, তা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হতো- এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এই উত্তেজনা বাড়ছে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই প্রণালি দিয়ে হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি উদ্যোগের মাধ্যমে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে চাইলে ইরান তা বাধাগ্রস্ত করার হুঁশিয়ারি দেয়।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে।
মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের ছোড়া ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন প্রতিহত করেছে এবং কয়েকটি ছোট নৌযান ধ্বংস করেছে। যদিও ইরান বলছে, তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে- যা যুক্তরাষ্ট্র অস্বীকার করেছে।
ফুজাইরাহর তেল স্থাপনাটি যুদ্ধ চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল। এটি প্রতিদিন প্রায় ১৭ লাখ ব্যারেল তেল হ্যান্ডল করে, যা আমিরাতের মোট রপ্তানির প্রায় অর্ধেক।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক