ট্রাম্প মনোনীত বিচারক এত অজ্ঞ!
মার্কিন সিনেটের বিচার বিভাগীয় কমিটির এক শুনানিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত বিচারকদের অজ্ঞতা নাকি ‘কৌশলী নীরবতা’ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, সংবিধানের ২২তম সংশোধনী (একজন প্রেসিডেন্টের তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনের সুযোগ সীমিত করার আইন) নিয়ে মনোনীত এক বিচারকের উত্তর সবাইকে হতবাক করেছে।
শুনানি চলাকালীন ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল মনোনীত বিচারকদের প্রশ্ন করেন, সংবিধানের ২২তম সংশোধনীতে কী বলা হয়েছে?
আরও পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে কীভাবে লাভবান হচ্ছে চীন?
টেক্সাসের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের বিচারক হিসেবে মনোনীত জন জর্জ এডওয়ার্ড মার্ক এর উত্তরে বলেন, সিনেটর, ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় আমি ফৌজদারি বিচারকাজ করেছি। এই নির্দিষ্ট সংশোধনীটি (২২তম সংশোধনী) ব্যবহার করার মতো সুযোগ আমার হয়ে ওঠেনি।
সিনেটর ব্লুমেনথাল বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করেন, ট্রাম্প কি ২০২৮ সালে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াই করতে পারবেন? এর উত্তরে মনোনীত বিচারক মার্ক সরাসরি ‘না’ বলার পরিবর্তে বিষয়টিকে ‘কাল্পনিক পরিস্থিতি’ হিসেবে অভিহিত করেন। এই বিষয়ে তাকে আরও বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে।
আরও পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভুল হামলায়’ হরমুজ প্রণালিতে নিহত ৫
কেবল জন মার্ক নন, শুনানিতে উপস্থিত অন্য তিন মনোনীত বিচারক আর্থার রবার্টস জোনস, মাইকেল জে হেনডারশট ও জেফরি টি কুন্টজ - সবাই একই ধরনের অবস্থান নেন।
সিনেটর ব্লুমেনথাল যখন তাদের জিজ্ঞেস করেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে কে জয়ী হয়েছিলেন? তখন তারা সরাসরি জো বাইডেনের নাম না বলে বারবার একটিই ‘শেখানো’ উত্তর দিতে থাকেন। তারা বলেন, জো বাইডেনকে বিজয়ী হিসেবে সার্টিফাইড করা হয়েছে।
মনোনীতদের এমন উত্তরে ক্ষোভ প্রকাশ করে সিনেটর ব্লুমেনথাল বলেন, যারা ফেডারেল বিচারক হতে যাচ্ছেন, তারা একটি সাধারণ সত্য স্বীকার করতেও ভয় পাচ্ছেন। আপনারা যে উত্তরগুলো দিচ্ছেন তা স্পষ্টতই আগে থেকে শেখানো এবং ‘অরওয়েলিয়ান’ (বাস্তবতাকে অস্বীকার করা)। এটি এই কমিটির জন্য অপমানজনক।
আরও পড়ুন : অভিনয় থেকে রাজনীতি- মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে কি বসবেন থালাপতি বিজয়?
কেন এই নীরবতা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ২০২৮ সালে তার তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচন করার সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন তুলেছেন। যদিও সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী এটি অসম্ভব। তবুও ট্রাম্পের মনোনীত বিচারকরা তাকে চটানোর ভয়ে বা তার বিরাগভাজন হওয়ার আশঙ্কায় সংবিধানের এই স্পষ্ট আইনটি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে ভয় পাচ্ছেন।
আরও পড়ুন : হোয়াইট হাউসের কাছে গুলিতে বন্দুকধারী আহত, পাশেই ছিলেন জেডি ভ্যান্স
তদন্তে জানা গেছে, মনোনীত বিচারক জন জর্জ এডওয়ার্ড মার্ক অতীতে টেক্সাসে প্রসিকিউটর হিসেবে কাজ করেছেন। সিনেটর ব্লুমেনথাল দাবি করেছেন, এই মনোনীতরা সংবিধান বা সত্যের চেয়েও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তাদের আনুগত্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক