ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে আছে যেসব শর্ত, যুক্তরাষ্টের প্রতিক্রিয়া কী?
দীর্ঘদিনের দুই প্রতিপক্ষ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই বড় ধরনের সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। চলমান যুদ্ধ চিরতরে শেষ করার লক্ষে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রস্তাব নিয়ে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।
হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ও বিশ্বজুড়ে জ্বালানির আকাশচুম্বী দামের প্রেক্ষাপটে আসা এই প্রস্তাবটি এখন হোয়াইট হাউসের টেবিলে।
কী আছে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে?
ইরানের এই নতুন প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবি—পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর অবিলম্বে বিধিনিষেধের বিষয়টি রাখা হয়নি। তেহরানের প্রস্তাবের প্রধান দিকগুলো হলো :
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা : ইরান কৌশলগত এই জলপথটি পুনরায় খুলে দিতে চায়, যা বর্তমানে বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
নৌ অবরোধ প্রত্যাহার : বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে ও যুদ্ধ সমাপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে হবে।
পারমাণবিক আলোচনা স্থগিত : তেহরানের শর্ত হলো, যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে কোনো আলোচনা করা যাবে না।
এই প্রস্তাবটি পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরান কিছু নির্দিষ্ট ‘রেড লাইন’ বজায় রেখেই এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে।
এই প্রস্তাবটি আগের চেয়ে কতটা আলাদা?
ইরানি বিশ্লেষক আবাস আসলানির মতে, ইরান এবার তাদের আলোচনায় ‘পরিবর্তিত’ পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। এর আগে ‘অর্থনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে পারমাণবিক ছাড়’—এই মডেলে আলোচনা হলেও তেহরান এখন একে কার্যকর মনে করছে না। বিশ্লেষক নেগার মোর্তাজাভি মনে করেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাবটি বর্তমানে একটি ‘বৈশ্বিক সংকট’ সমাধানের পথে বড় পদক্ষেপ হতে পারে। তবে পারমাণবিক ইস্যুটি অত্যন্ত জটিল হওয়ায় তা তড়িঘড়ি না করে সংঘাতহীন পরিবেশে আলোচনার দাবি জানাচ্ছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কী?
ইরানের এই প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২৭ এপ্রিল) তাঁর শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। তবে গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প এই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন।
রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না থাকায় ট্রাম্প এটি পছন্দ করেননি।
সিএনএন জানিয়েছে, পারমাণবিক প্রশ্নের সমাধান না করে অবরোধ তুলে নিলে ভবিষ্যতে আলোচনার ক্ষেত্রে আমেরিকার দর কষাকষির শক্তি কমে যেতে পারে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে বলেছেন, ‘তারা খুব ভালো আলোচক। তবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে কোনো সমঝোতা যেন ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ না দেয়।’
জার্মান চ্যান্সেলর মের্জ বলেছেন, ইরানিরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আলোচনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য ট্রাম্পের ওপর তাঁর মিত্রদের ক্রমবর্ধমান চাপের বহিঃপ্রকাশ। ইউরোপীয় দেশগুলো এখন দ্রুত এই সংকটের সমাধান চায়, কারণ জ্বালানি সংকট তাদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। দোহা ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক মোহাম্মদ এলমাসরি মনে করেন, সময় কারও পক্ষেই নেই এবং পরিস্থিতি যত দীর্ঘায়িত হবে, সমাধানের পথ ততই কঠিন হয়ে পড়বে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক