মেলানিয়াকে নিয়ে কৌতুক, জিমি কিমেলকে বরখাস্তের দাবি ট্রাম্প দম্পতির
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক সহিংসতা ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে টেলিভিশন উপস্থাপক জিমি কিমেলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ এপ্রিল) মেলানিয়া ট্রাম্প অভিযোগ করেন, এবিসি নেটওয়ার্কের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান জিমি কিমেল লাইভ!–এর সঞ্চালক জিমি কিমেল তার কৌতুকের মাধ্যমে ‘আমেরিকার রাজনৈতিক অসুস্থতা’ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন। খবর আল জাজিরার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মেলানিয়া বলেন, কিমেলের মতো মানুষদের প্রতিদিন রাতে আমাদের ঘরে ঢুকে ঘৃণা ছড়ানোর সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। তিনি কাপুরুষ, এবিসির আড়ালে লুকিয়ে থাকেন।
ফার্স্ট লেডি আরও বলেন, এখন সময় এসেছে এবিসির অবস্থান নেওয়ার। আর কতবার তাদের নেতৃত্ব কিমেলের এমন আচরণ মেনে নেবে?
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও কিমেলকে বরখাস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ডিজনি ও এবিসির উচিত অবিলম্বে জিমি কিমেলকে চাকরিচ্যুত করা।
প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির এমন দাবি যুক্তরাষ্ট্রে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ দেশটির সংবিধানের প্রথম সংশোধনী বাকস্বাধীনতা রক্ষার নিশ্চয়তা দেয়।
গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের নৈশভোজে গুলির ঘটনার পর এই বিতর্ক তীব্র হয়। ওই ঘটনার আগে নিজের অনুষ্ঠানে কিমেল মেলানিয়াকে নিয়ে একটি মন্তব্য করেন, যা ট্রাম্প সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়।
কিমেল তার অনুষ্ঠানে বলেন, আমাদের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া এখানে আছেন। মেলানিয়াকে দেখুন, কী সুন্দর। মিসেস ট্রাম্প, আপনার মুখে হবু বিধবার আভা দেখা যাচ্ছে।
এই মন্তব্যকে ট্রাম্প ‘সহিংসতার প্রতি জঘন্য উসকানি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এছাড়া কিমেল মেলানিয়ার তথ্যচিত্র নিয়েও ব্যঙ্গ করেন, যা বক্স অফিসে তেমন সফল হয়নি।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, একজন স্ত্রী তার স্বামীর সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডে আনন্দিত হতে পারেন- এমন কথা কোনো সুস্থ মানুষ বলতে পারে?
লেভিট দাবি করেন, প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে ছড়ানো ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য’ রাজনৈতিক সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, রিপাবলিকানদের একটি অংশ অতীতে বাকস্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিলেও এখন তারা ভিন্ন মত দমনে চাপ সৃষ্টি করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের পর থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ঘিরে একাধিক হামলার চেষ্টা হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ভাষা ও সহিংসতার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক