যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন প্রস্তাব’ নিয়ে যা জানাল ইরান
ইরান জানিয়েছে, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে তারা চলমান আলোচনায় নিজেদের কঠোর অবস্থান বজায় রাখায় ইঙ্গিত দিয়েছে। খবর আল জাজিরার।
এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, সম্প্রতি ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে’। তেহরান এখনও সেগুলো পর্যালোচনা করছে এবং কোনো জবাব দেয়নি।
সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বিবৃতিতে উল্লেখ করে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তেহরান সফর করেছেন।
কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকা সত্ত্বেও ইরান তাদের অবস্থানে অটল থাকার কথা জোর দিয়ে বলেছে। দেশটি বলেছে, তাদের আলোচক দল ‘বিন্দুমাত্র আপস, পিছু হটা বা নমনীয়তা দেখাবে না এবং সর্বশক্তি দিয়ে ইরানি জাতির স্বার্থ রক্ষা করবে’।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি সেনা দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি উভয় দেশের বাহিনীকে ‘অবিশ্বাস ও ঔদ্ধত্যের শীর্ষ স্থানীয়’ বলে অভিহিত করেন। খবর আলজাজিরার।
টেলিগ্রামে পাঠানো এক বার্তায় আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেন, ইরানের সেনাবাহিনী বিশ্বের সামনে তাদের (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল) দুর্বলতা ও অপমানজনক অবস্থা প্রকাশ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের ড্রোনগুলো মার্কিন ও জায়নবাদী দুষ্কৃতকারীদের ওপর বজ্রপাতের মতো আঘাত হেনেছে।
মোজতবা খামেনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সাহসী নৌবাহিনী শত্রুদের নতুন পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ দিতে প্রস্তুত।
আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি চলমান যুদ্ধকে ইরানের বিপ্লবী ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি এ যুদ্ধকে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব পূর্ববর্তী দুটি ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের’ সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, বিপ্লবের পর থেকে সেনাবাহিনী ‘তার সঠিক স্থানে অবস্থান করছে’। তিনি সেনাবাহিনীকে ‘সত্যিকার অর্থেই জাতির সন্তান’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
বার্তায় মোজতবা খামেনি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ও নিহত বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তিনি বলেন, প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিপ্লবের প্রথম দশক থেকে সেনাবাহিনীকে রক্ষা এবং তাদের সক্ষমতা বাড়াতে সবচেয়ে বেশি চেষ্টা করেছিলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর দিনেই বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে এরপর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
বার্তায় সর্বশেষে মোজতবা খামেনি মহান ইরান জাতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে আলাদাভাবে কূটনৈতিক সফর শেষ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান। ইতোমধ্যে তুরস্ক থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। পাশাপাশি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। খবর আলজাজিরার।
আজ শনিবার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তিন দিনের তেহরান সফরে আসিম মুনির ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং শান্তি আলোচনায় নিয়োজিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সামরিক বাহিনী আরও জানায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে প্রত্যাশিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার আগে আসিম মুনিরের এই সফর সমঝোতামূলক সমাধানে সহায়তা করার লক্ষ্যে এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রচারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অবিচল সংকল্পকে তুলে ধরেছে।
সফরকালে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পার্লামেন্ট স্পিকার এবং সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করেন।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এটি ছিল কয়েক দশকের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ। গত সপ্তাহের সেই আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল এবং চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হতে চলেছে।
শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফর করার মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প আসিম মুনিরের প্রশংসা করে বলেন, তিনি চমৎকার কাজ করছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক