মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত : কূটনৈতিক সফর শেষ করলেন শেহবাজ ও আসিম মুনির
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে আলাদাভাবে কূটনৈতিক সফর শেষ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান। ইতোমধ্যে তুরস্ক থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। পাশাপাশি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। খবর আলজাজিরার।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তিন দিনের তেহরান সফরে আসিম মুনির ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং শান্তি আলোচনায় নিয়োজিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সামরিক বাহিনী আরও জানায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে প্রত্যাশিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার আগে আসিম মুনিরের এই সফর সমঝোতামূলক সমাধানে সহায়তা করার লক্ষ্যে এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রচারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অবিচল সংকল্পকে তুলে ধরেছে।
সফরকালে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পার্লামেন্ট স্পিকার এবং সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করেন। উল্লেখ্য, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এটি ছিল কয়েক দশকের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ।
গত সপ্তাহের সেই আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল এবং চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হতে চলেছে। তবে শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্ক সফর করার মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। কর্মকর্তাদের বিবৃতি অনুযায়ী, তিন দেশে তার এই সফর শনিবার শেষ হয়েছে এবং তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারসহ তুরস্কের আনাতালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরাম ত্যাগ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ লিখেছেন, ‘আমি আনাতালিয়া থেকে সুন্দর স্মৃতি এবং আমাদের দুই জাতির মধ্যকার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার নব অঙ্গীকার নিয়ে ফিরছি। এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সংলাপ এবং কূটনীতিকে এগিয়ে নিতে আমরা আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তির সম্ভাবনা বজায় রাখতে ইসলামাবাদ যখন আঞ্চলিক ও বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ নিবিড় করছে, ঠিক তখনই পাকিস্তানে পরবর্তী দফার আলোচনার প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে। লেবাননে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হলেও, ইরান পুনরায় সেখানে বিধিনিষেধ আরোপ করায় দুই দেশের মধ্যে চুক্তির চাপ আরও বেড়েছে। তেহরান অভিযোগ করেছে যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দেওয়ার বিষয়ে হওয়া চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন করেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প আসিম মুনিরের প্রশংসা করে বলেছেন যে, তিনি চমৎকার কাজ করছেন।
ইসলামাবাদ থেকে আলজাজিরার সংবাদদাতা কামাল হায়দার জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রত্যাশিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই শনিবার আসিম মুনির দেশে ফিরেছেন। এ বিষয়ে কামাল হায়দার বলেন, ‘আমরা সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানি নেতৃত্বের প্রচুর প্রশংসা করতে দেখেছি। তাই এখন সবার নজর ইসলামাবাদের দিকে। যদিও এখনো গুরুতর মতপার্থক্য রয়ে গেছে, তবে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে এবং একটি বড় ধরনের সাফল্যের আশা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।’

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক