আলোচনায় প্রস্তুত তেহরান, তারপরও যে শঙ্কা
ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষই আলোচনার দরজা খোলা রাখার কথা বললেও মূল সংকটের সমাধান এখনো অনেক দূরে। ইরানি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ডিপ্লোহাউস’-এর পরিচালক হামিদ রেজা গোলামজাদেহর মতে, দুই দশক ধরে চলা মার্কিন সামরিক হুমকি মোকাবিলা করতে পারাটাই এখন আলোচনার টেবিলে ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা। খবর আল জাজিরার।
হামিদ রেজা গোলামজাদেহ আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমেরিকানদের জন্য ‘চরমপন্থি পন্থা’ ছিল একটি সামরিক বিকল্প, যা গত ২০ বছর ধরে আলোচনার টেবিলে হুমকি হিসেবে ছিল। বর্তমানে সেই হুমকি বাস্তবায়িত হওয়া সত্ত্বেও ইরান টিকে আছে। তেহরানের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই টিকে থাকাই তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে ও আলোচনার টেবিলে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
বিশ্লেষকের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে বিরাজমান সামরিক হুমকি মোকাবিলা করার পর ইরান এখন আর চাপের মুখে ছাড় দেওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ দেখছে না। তিনি বলেন, ‘ইরান বলছে তারা টিকে গেছে ও এটিই তাদের দরকষাকষির মূল হাতিয়ার।’ ফলে যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই এখন ইরানকে চাপে ফেলে নিজের শর্ত মানাতে পারবে না।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনও নিজস্ব সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছে বলে মনে করেন গোলামজাদেহ। তিনি বলেন, ‘আমেরিকানরা সাধারণত কোনো কিছু ছেড়ে দিতে অভ্যস্ত নয়। বিশেষ করে তাদের সামরিক অভিযান যে ব্যর্থ হয়েছে, সেটি স্বীকার করা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন।’
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ইরানের টিকে থাকার লড়াই ও অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ধরে রাখার মানসিকতা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনই বর্তমান অচলাবস্থার মূল কারণ। দুই পক্ষই আলোচনার কথা বললেও নিজেদের মৌলিক অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক