যুদ্ধবিরতিতে ইরানের ১০ শর্তে কী আছে ?
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে নতুন কূটনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়েছে। এই আলোচনার মূলে রয়েছে তেহরানের প্রস্তাবিত ‘১০ দফা পরিকল্পনা’। আগামী ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠেয় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই শর্তগুলোই তুলে ধরবে ইরান।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল এই ১০টি শর্তের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। যা মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর আলজাজিরার।
ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনার মূল দাবিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-
১. হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ : হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করতে হবে, যা এই অঞ্চলে ইরানের একক আধিপত্য নিশ্চিত করবে।
২. প্রতিরোধ অক্ষের সুরক্ষা : তথাকথিত ‘অক্ষশক্তি’ বা রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কোনো সামরিক অভিযান চালাতে পারবে না।
৩. মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার : মধ্যপ্রাচ্যের সকল সামরিক ঘাঁটি ও মোতায়েন পয়েন্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কমব্যাট ফোর্স বা লড়াকু সৈন্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।
৪. নিরাপদ ট্রানজিট প্রটোকল : হরমুজ প্রণালিতে এমন একটি নতুন প্রটোকল তৈরি করতে হবে যা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইরানের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব বজায় রাখবে।
৫. ক্ষতিপূরণ : গত কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধে ইরানের অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। তার সুনির্দিষ্ট হিসাব অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৬. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার : ইরানের ওপর আরোপিত সকল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বোর্ড অব গভর্নরস ও নিরাপত্তা পরিষদের সকল নেতিবাচক প্রস্তাবনা বাতিল করতে হবে।
৭. জব্দকৃত সম্পদ মুক্তি : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের সকল রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সম্পত্তি অবিলম্বে অবমুক্ত করতে হবে।
৮. টোল বা মাশুল আদায় : হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলো থেকে ট্রানজিট ফি আদায়ের অনুমতি দিতে হবে (যা ইতোমধ্যে যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে আলোচিত হচ্ছে)।
৯. আঞ্চলিক নিরাপত্তা গ্যারান্টি : এই অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ বন্ধের আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
১০. নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন : উপরের সকল বিষয়কে একটি আন্তর্জাতিকভাবে বাধ্যতামূলক এবং টেকসই করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোল্যুশনের মাধ্যমে আইনি ভিত্তি প্রদান করতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ১০ দফা পরিকল্পনাটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা মানা হলে ইরান এই অঞ্চলের প্রধান শক্তিতে পরিণত হবে। বিশেষ করে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার এবং নিষেধাজ্ঞার অবসান তেহরানের দীর্ঘদিনের দাবি। এখন ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই শর্তগুলোর কতটুকু মেনে নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্বশান্তি ও তেলের বাজারের ভবিষ্যৎ।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক