ডুরান্ড লাইন কী? এটি কেনো গুরুত্বপূর্ণ
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যবর্তী ২ হাজার ৬৪০ কিলোমিটার (১ হাজার ৬৪০ মাইল) দীর্ঘ সীমানা রেখার নাম ডুরান্ড লাইন। এটি মূলত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের উত্তরাধিকার, যা বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ সীমান্ত হিসেবে পরিচিত।
১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব স্যার মর্টিমার ডুরান্ড ও আফগানিস্তানের আমির আবদুর রহমান খানের মধ্যে একটি চুক্তির মাধ্যমে এই সীমানা নির্ধারিত হয়। সেই সময়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও রুশ সাম্রাজ্যের মধ্যে এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা (যা ‘গ্রেট গেম’ নামে পরিচিত) চলছিল। এরই অংশ হিসেবে আফগানিস্তানকে একটি ‘বাফার স্টেট’ বা মধ্যবর্তী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এই রেখা টানা হয়েছিল। ১৯১৯ সালে তৃতীয় অ্যাংলো-আফগান যুদ্ধের পর রাওয়ালপিন্ডি চুক্তির মাধ্যমে এই সীমানাকে পুনরায় স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর দেশটি ডুরান্ড লাইনকে তাদের আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করে এবং একে আইনত স্বীকৃত সীমানা হিসেবে গণ্য করে। তবে আফগানিস্তান শুরু থেকেই এই রেখাকে অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, এই চুক্তিটি ব্রিটিশরা জোরপূর্বক আমিরের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল। ব্রিটিশ শাসন শেষ হওয়ার পর এই চুক্তির কার্যকারিতাও শেষ হয়ে গেছে। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান যখন জাতিসংঘে যোগ দেয়, তখন একমাত্র রাষ্ট্র হিসেবে আফগানিস্তান এর বিরোধিতা করেছিল এই সীমান্ত বিরোধের কারণেই।
এই রেখাটি ঐতিহাসিকভাবে পশতুন অধ্যুষিত এলাকাকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলেছে। ফলে একই গোত্র, পরিবার ও সংস্কৃতির মানুষ এখন দুটি ভিন্ন দেশে বসবাস করছে। এই বিভাজন ‘পশতুনিস্তান’ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবির জন্ম দিয়েছে।
পাকিস্তান এই সীমানা বরাবর প্রায় ৮০০ কিলোমিটার এলাকা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলেছে। ইসলামাবাদের দাবি, এর ফলে সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান বন্ধ হবে। তবে তালেবান প্রশাসন এই ফেন্সিংকে অবৈধ মনে করে এবং প্রায়ই সীমানার বেড়া উপড়ে ফেলার মতো ঘটনা ঘটে।
দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরু হওয়ার মূল কেন্দ্রবিন্দুও এই ডুরান্ড লাইন। পাকিস্তান অভিযোগ করে, আফগানিস্তানের তালেবানরা টিটিপি নামক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে এই সীমান্তের ওপারে আশ্রয় দিচ্ছে, যা তারা অস্বীকার করে আসছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক