জাতিসংঘের মহাসচিব নিয়োগে প্রার্থিতা চেয়ে বাংলাদেশসহ সব দেশকে চিঠি
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই পদে মনোনয়ন পাঠানোর জন্য ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে সংস্থাটি। ফলে বাংলাদেশসহ সকল সদস্য দেশ তাদের যোগ্য প্রার্থীর মনোনয়ন দিতে পারবে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সিয়েরা লিওনের রাষ্ট্রদূত ও বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি মাইকেল ইমরান কানু এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতি আন্নালেনা বেয়ারবকের যৌথ চিঠিতে বলা হয়েছে, সংস্থাটি মহাসচিবের নিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনীতি ও ভাষার দক্ষতার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ প্রার্থী খুঁজছে । খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
জাতিসংঘের ইতিহাসে এখনো কোনো নারী এই পদে আসীন হননি। এই বিষয়টি চিঠিতে উল্লেখ করে সদস্য দেশগুলোকে নারী প্রার্থী মনোনীত করার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে বিবেচনা করার জন্য জোর দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীরা একটি রাষ্ট্র বা একাধিক রাষ্ট্রের সমন্বয়ে মনোনীত হতে পারবেন। তাদেরকে একটি ভিশন স্টেটমেন্ট ও অর্থায়নের উৎসের তালিকা জমা দিতে হবে।
ইতোমধ্যেই এই পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আসা কয়েকজনের মধ্যে রয়েছেন- চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচেলেট, আর্জেন্টিনার অধিবাসী আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি, জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার প্রধান রেবেকা গ্রিনস্প্যান।
এছাড়াও আঞ্চলিক আবর্তনের ঐতিহ্য অনুসারে এবার লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই প্রথা সব সময় মানা হয় না। জাতিসংঘের চিঠিতে নির্দিষ্ট অঞ্চলের নাম উল্লেখ না করে ‘আঞ্চলিক বৈচিত্র্যের গুরুত্ব’ উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া মোটলি ও কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোসের নামও আলোচনা করছেন।
প্রার্থীরা যেকোনো রাষ্ট্রের মনোনীত হলেও নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স—প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণে চূড়ান্ত ভূমিকা রাখবে। নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের পরই সাধারণ পরিষদ পাঁচ বছরের মেয়াদের জন্য মহাসচিব নির্বাচন করবে। নবনির্বাচিত মহাসচিব ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক