বাবার সঙ্গে ভ্রমণেও স্বামীর অনুমতি লাগবে সৌদি নারীর
সৌদি নারীদের ভ্রমণে যেতে হলে তাদের স্বামীদের অনুমতি নিতে হবে। এমনকি বাবার সঙ্গে কোথাও যাওয়ার সময়ও তাদের এ অনুমতি লাগবে।
সৌদি আরবের সিনিয়র স্কলার কাউন্সিলের সদস্য শেখ আবদুল্লাহ আল-মুনাই বলেন, ‘নারীর বৈধ অভিভাবক হচ্ছেন তাঁর স্বামী। এ কারণে স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোনো বিবাহিত নারী বাড়ির বাইরে অথবা কোথাও ঘুরতে যেতে পারবে না।’
আল-মুনাই বলেন, ‘কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া একজন স্বামী যদি তাঁর স্ত্রীকে ভ্রমণে বাধা দেন, সে ক্ষেত্রে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত যেতে পারে এবং বিচারক এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে পারেন।’
পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের পাসপোর্ট বিভাগের মুখপাত্র কর্নেল মোল্লাহ আল-ওতাইবি বলেন, ‘যখন একজন নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তখন থেকেই তিনি তাঁর স্বামীর অভিভাবকত্বের আওতায় চলে আসেন।’
আল-ওতাইবি বলেন, ‘একজন নারীকে তাঁর বাবার সঙ্গে ভ্রমণ করার জন্যও তাঁর স্বামীর অনুমতি নিতে হবে। একজন নারীর বৈধ অভিভাবক তাঁর স্বামী এবং তাঁর সঙ্গে যিনি ঘুরতে যাবেন তাঁকেও তাঁর স্বামীর অনুমতি নিতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ওই নারীর অভিভাবক চাইলে অনলাইন পোর্টাল আবশিরের মাধ্যমে তাঁর ভ্রমণের অনুমোদন বাতিল করে দিতে পারেন।’
আল-ওতাইবি বলেন, ‘টুইটার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যেকোনো তথ্য গ্রহণ করার জন্য এই পাসপোর্ট বিভাগ খোলা রয়েছে। আমরা নিয়মিতভাবে টুইটার ব্যবহারকারীদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকি।’
আইনজীবী আব্দুর রহমান আল-লাহিম বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী একজন নারী যিনি তাঁর নিজের বিষয়গুলো নিজেই সামলান, তাঁর ক্ষেত্রে ভ্রমণের জন্য স্বামী বা বাবার অনুমতির প্রয়োজন নেই।’
সাবেক বিচারক সালেহ আল শাবরামি বলেন, ‘প্রত্যেক নারীর অধিকার রয়েছে নির্যাতিত হলে তাঁর অভিভাবকের বিরুদ্ধে মামলা করার। ইসলামিক শরীয়াহ আইনে নারীর অধিকার সুরক্ষা করা হয়েছে।’
সৌদি গেজেট জানিয়েছে, সৌদি আরবে নারীদের প্রয়োজনীয় সব স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। পুরুষের অনুমতি ছাড়াও তাদের কাজ করার অধিকার দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক