ইউএসবি-সি পোর্টে ভিডিও চলবে কি না বুঝবেন যেভাবে
ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, গেম কন্ট্রোলারসহ নানা ডিভাইসে এখন ইউএসবি-সি পোর্ট বেশ পরিচিত। একই ধরনের পোর্ট হওয়ায় অনেকের ধারণা, সব ইউএসবি-সি পোর্ট দিয়েই চার্জ, তথ্য আদান-প্রদান ও ভিডিও প্রদর্শনের কাজ করা যায়। কিন্তু বাস্তবে সব ইউএসবি-সি পোর্টের সক্ষমতা এক নয়।
কোনো কোনো ইউএসবি-সি পোর্ট শুধু চার্জ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা যায়, আবার কোনো পোর্ট দিয়ে তথ্য আদান-প্রদানের পাশাপাশি মনিটর বা টিভিতে ভিডিও পাঠানো যায়। তাই ইউএসবি-সি পোর্টে ভিডিও আউটপুট পাওয়া যাবে কি না, তা আগে থেকেই জানা জরুরি।
ডিসপ্লেপোর্ট অল্টারনেট মোড কী
ইউএসবি-সি পোর্ট ভিডিও সমর্থন করে কি না জানার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডিসপ্লেপোর্ট অল্টারনেট মোড বা ডিপি অল্ট মোড সমর্থন আছে কি না। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ইউএসবি-সি কেবল ব্যবহার করে ডিসপ্লেপোর্ট প্রযুক্তির সাহায্যে ভিডিও সংকেত পাঠানো যায়। একই কেবলের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান এবং অডিও-ভিডিও সংকেত পাঠানোর সুবিধাও পাওয়া যায়। তবে শুধু একটি ডিভাইসে ডিপি অল্ট মোড থাকলেই হবে না। ভিডিও প্রদর্শনের জন্য ডিভাইস, ডিসপ্লে এবং সংযোগকারী কেবল-তিনটিকেই ডিপি অল্ট মোড সমর্থন করতে হবে।
ইউএসবি-সি পোর্টে কী চিহ্ন আছে দেখুন
অনেক নির্মাতা ইউএসবি-সি পোর্টের পাশে এর সক্ষমতার চিহ্ন দিয়ে রাখে। থান্ডারবোল্ট সমর্থিত পোর্টে সাধারণত বজ্রের চিহ্ন থাকে। কোনো কোনো ডিভাইসে ডিপি বা ডিসপ্লেপোর্টের চিহ্নও দেওয়া থাকতে পারে।তবে পোর্টে কোনো চিহ্ন না থাকলেও সেটি ভিডিও সমর্থন করতে পারে। তাই নিশ্চিত হতে ডিভাইসটির ব্যবহারবিধি বা নির্মাতার দেওয়া কারিগরি তথ্য দেখা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।
ইউএসবি ৩.১ ও ৩.২ হলেই ভিডিও চলবে?
শুধু ইউএসবি ৩.১ বা ইউএসবি ৩.২ লেখা থাকলেই যে ভিডিও আউটপুট পাওয়া যাবে, এমন নয়। এসব সংস্করণে ডিপি অল্ট মোড সমর্থন করবে কি না, তা নির্মাতার ওপর নির্ভর করতে পারে।
অন্যদিকে ইউএসবি৪-এ বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি ভিডিও সমর্থনের সুবিধা রয়েছে। ইউএসবি-সি সংযোগ ব্যবহার করা থান্ডারবোল্ট ৩, থান্ডারবোল্ট ৪ ও থান্ডারবোল্ট ৫-এ উচ্চগতির তথ্য ও ভিডিও স্থানান্তরের সুবিধা রয়েছে। বিশেষ করে একাধিক মনিটর, বেশি রেজল্যুশন বা বেশি রিফ্রেশ রেটের প্রয়োজন হলে নতুন প্রজন্মের থান্ডারবোল্ট প্রযুক্তি বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
ইউএসবি-সি পোর্টে ভিডিও না চললে কী করবেন
যদি আপনার ল্যাপটপ বা অন্য ডিভাইসের ইউএসবি-সি পোর্ট ভিডিও সমর্থন না করে, তাহলে বিকল্প হিসেবে এইচডিএমআই পোর্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। ডিভাইস ও মনিটর-দুটিতেই এইচডিএমআই পোর্ট থাকলে উপযুক্ত কেবল দিয়ে সরাসরি ভিডিও সংযোগ দেওয়া সম্ভব। উচ্চ রেজল্যুশন ও রিফ্রেশ রেটের জন্য এইচডিএমআইয়ের সংস্করণও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এইচডিএমআই ২.০ এবং আধুনিক উচ্চক্ষমতার ব্যবহারে এইচডিএমআই ২.১ বা পরবর্তী সংস্করণ বিবেচনা করা যেতে পারে।
ইউএসবি-এ থেকে এইচডিএমআইও সম্ভব
ডিভাইসে এইচডিএমআই পোর্ট না থাকলে সক্রিয় ইউএসবি-এ থেকে এইচডিএমআই অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করা যায়। এ ধরনের অ্যাডাপ্টার সাধারণ ইউএসবি পোর্ট থেকে এইচডিএমআই আউটপুট দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
তবে এসব অ্যাডাপ্টার অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যার ও ইউএসবি ব্যান্ডউইডথের ওপর নির্ভর করে কাজ করে। ফলে গেম খেলা বা খুব বেশি রেজল্যুশন ও রিফ্রেশ রেট প্রয়োজন এমন কাজে এগুলো সবসময় আদর্শ নাও হতে পারে।
এদিকে ইউএসবি-সি হাবের এইচডিএমআই পোর্ট কিংবা ইউএসবি-সি থেকে এইচডিএমআই কেবল ব্যবহার করলেই যে ভিডিও পাওয়া যাবে, তা নয়। ল্যাপটপের ইউএসবি-সি পোর্টে ডিপি অল্ট মোড সমর্থন না থাকলে এ ধরনের সাধারণ সংযোগ কাজ করবে না।
তার ছাড়াও পর্দা দেখানো যায়
তার ব্যবহার করতে না চাইলে এয়ারপ্লে বা মিরাকাস্টের মতো ওয়্যারলেস ডিসপ্লে প্রযুক্তিও বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এর মাধ্যমে উপযুক্ত টেলিভিশন বা মনিটরে ডিভাইসের পর্দা প্রদর্শন করা সম্ভব। তাই নতুন ল্যাপটপ, ফোন বা অন্য কোনো ডিভাইস কেনার আগে শুধু ইউএসবি-সি পোর্ট আছে কি না দেখলেই হবে না। পোর্টটি ভিডিও আউটপুট সমর্থন করে কি না এবং কোন প্রযুক্তি সমর্থন করে, সেটিও যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
সূত্র: এনগ্যাজেট

নিজস্ব প্রতিবেদক