এআইনির্ভর হচ্ছে সাইবার হামলা, নিরাপত্তায়ও এআই ব্যবহারের পরামর্শ ক্যাসপারস্কির
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও দ্রুতগতির কানেক্টিভিটি ব্যবসার ধরন বদলে দেওয়ার পাশাপাশি সাইবার হামলার কৌশলেও দ্রুত পরিবর্তন আনছে। এআই ব্যবহার করে সাইবার হামলা আরও দ্রুত ও জটিল হয়ে ওঠায় এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোকে হুমকি শনাক্তকরণ, নিয়মিত নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ক্যাসপারস্কির গবেষক হিয়া বলেন, এআই ও এর বিভিন্ন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর গতি ও কানেক্টিভিটি বাড়ছে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি ও অপারেশনাল প্রযুক্তি পরিবেশে নিরাপত্তার অদৃশ্য ঝুঁকিও বাড়ছে। ফলে সাইবার নিরাপত্তায় শুধু হামলার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কী ঘটছে তা আগেই শনাক্ত করা জরুরি।
ক্যাসপারস্কির তথ্যানুযায়ী, গত বছর প্রতিদিন গড়ে পাঁচ লাখ ইউনিক ক্ষতিকর ফাইল শনাক্ত ও প্রতিহত করা হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখিয়েছে যে অনলাইন হামলার প্রভাব এখন সরাসরি বাস্তব জগতের কার্যক্রমেও পড়ছে।
ক্যাসপারস্কি জানিয়েছে, এআই-সহায়তাপ্রাপ্ত সাইবার হামলা, তথ্যপ্রযুক্তি ও অপারেশনাল প্রযুক্তি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সাইবার নাশকতা এবং জটিল সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে র্যানসমওয়্যার হামলার মাধ্যমে কারখানার কার্যক্রম ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা অচল করে দেওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।
এআই এজেন্টের ব্যবহার সাইবার সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে বলেও জানিয়েছে ক্যাসপারস্কি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চলতি বছরেই এআই এজেন্টভিত্তিক সফটওয়্যারের ছদ্মবেশে থাকা ১৫ হাজারের বেশি ম্যালওয়্যার নমুনা শনাক্ত করা হয়েছে।
ক্যাসপারস্কির মতে, এআই এজেন্টগুলো তৃতীয় পক্ষের ফ্রেমওয়ার্ক, এপিআই ও প্লাগইনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থার কোনো একটি উপরের স্তরের উপাদান আক্রান্ত হলে তার প্রভাব একাধিক সিস্টেমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে সাইবার নাশকতা ও গুপ্তচরবৃত্তির ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির কম্প্রোমাইজ অ্যাসেসমেন্টের তথ্যেও দীর্ঘ সময় ধরে সাইবার হামলা শনাক্ত না হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশ্লেষণ করা ঘটনাগুলোর ৩১ শতাংশে তিন মাসের বেশি সময় ধরে ক্ষতিকর কার্যক্রম চলেছে। উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ সাইবার আক্রান্তের ৫২ শতাংশ ঘটনার ৯০ দিন পর শনাক্ত হয়েছে। এমনকি সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী একটি হামলা শনাক্ত হওয়ার আগে চার বছর ধরে সক্রিয় ছিল।
এ কারণে আধুনিক ও সমন্বিত সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার (এসওসি) প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে ক্যাসপারস্কি। নিয়মিত নজরদারি না থাকলে হামলাকারীরা নেটওয়ার্কের ভেতরে ছড়িয়ে পড়া, অতিরিক্ত প্রবেশাধিকার অর্জন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ পায়।
ক্যাসপারস্কির গবেষক হিয়া বলেন, সাইবার নিরাপত্তায় এআই ও মানুষের দক্ষতার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাসপারস্কির নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও সেবাগুলোতে এআই এবং মানব বিশেষজ্ঞের সমন্বিত সক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দ্রুত হুমকি শনাক্তকরণ, বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয় করা এবং ধারাবাহিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ক্যাসপারস্কি নেক্সট, কম্প্রোমাইজ অ্যাসেসমেন্ট, ম্যানেজড ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (এমডিআর), ইন্সিডেন্ট রেসপন্স এবং এসওসি কনসাল্টিংয়ের মতো সেবা ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানগুলো হুমকি শনাক্তকরণ, তদন্ত ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক