জাতীয় বিজ্ঞাপন নির্মাণ প্রতিযোগিতা ‘অ্যাডউইজ’ এর চ্যাম্পিয়ন ‘টিম উন্নয়ন’
তরুণদের সৃজনশীলতা, কৌশলগত চিন্তা ও বিজ্ঞাপন নির্মাণের দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি বিজনেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় বিজ্ঞাপন নির্মাণ প্রতিযোগিতা ‘অ্যাডউইজ ২.০’ এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত দলগুলো শিল্পখাতের অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সামনে নিজেদের বিজ্ঞাপন ধারণা, পরিকল্পনা ও উপস্থাপনা তুলে ধরে।
প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের ‘টিম উন্নয়ন’ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফার্স্টটাইমার’ প্রথম রানারআপ এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ‘অ্যাডভার্স’ দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় মোট পুরস্কারের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চ্যাম্পিয়ন দল পেয়েছে ২ লাখ টাকা, প্রথম রানারআপ ১ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপ পেয়েছে ৫০ হাজার টাকা।
আয়োজকেরা জানান, জাতীয় পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতায় দেশের ৫০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় সাড়ে ৭০০ দল এবং তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন ধাপের প্রতিযোগিতা শেষে সেরা পাঁচটি দল গ্র্যান্ড ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রতিযোগীদের তৈরি অনলাইন ভিডিও বিজ্ঞাপন, সরাসরি উপস্থাপনা এবং বিচারকদের প্রশ্নোত্তর পর্বের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি বিজনেস ক্লাবের সভাপতি ওয়াজিদ তৌসিফ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আজ আমরা একটি জাতীয় পর্যায়ের বিজ্ঞাপন নির্মাণ প্রতিযোগিতার সমাপনী আয়োজন করছি। চূড়ান্ত পর্বে সেরা পাঁচটি দলকে চারজন বিচারক বিভিন্ন দিক থেকে মূল্যায়ন করছেন। তাদের তৈরি অনলাইন ভিডিও বিজ্ঞাপন, সরাসরি উপস্থাপনা এবং প্রশ্নোত্তর-এই তিনটি বিষয়ের ওপর মূলত নম্বর দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন পর্বে সারাদেশের ৫০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাড়ে ৭০০টির মতো দল অংশ নেয়। তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রতিটি ধাপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর আমরা শেষ পর্যন্ত সেরা দলগুলোকে নিয়ে গ্র্যান্ড ফাইনালে পৌঁছেছি।’
‘অ্যাডউইজ’ আয়োজনের পেছনের দীর্ঘ প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিবিএ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিজবি ক্লাবের মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কানিজ ফাতেমা তানহা বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতার পুরো যাত্রাই ছিল অসাধারণ। এর আগে এইচএসবিসি বিজনেস কম্পিটিশন আয়োজনের পরপরই মূলত অ্যাডউইজ নিয়ে আমাদের কাজ শুরু হয়। মাসের পর মাস ধরে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের কাজ চলেছে।’
তিনি বলেন, ‘স্পন্সরশিপ সংগ্রহ, গণমাধ্যম সহযোগী নিশ্চিত করা, অন্যান্য ক্লাবের সঙ্গে সমন্বয়, রোডশো, সরাসরি বুথ পরিচালনা এবং প্রচার-প্রচারণাসহ বিভিন্ন কাজ আমাদের করতে হয়েছে। এমনকি বিশ্বকাপ ফুটবলের আমেজের মধ্যেও আমরা প্রচারণার কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে গেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি ছিল আমাদের পুনরায় আয়োজন করা একটি প্রকল্প। এর আগে ২০১৭ সালে প্রথমবার এ আয়োজন হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন করে আয়োজন করায় আমাদের প্রত্যাশা যেমন বেশি ছিল, তেমনি চাপও ছিল অনেক। তবে আনন্দের বিষয় হলো, আমরা সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছি।’
দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সব পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়িত হতে দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এ আয়োজনের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।’
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি বিজনেস ক্লাবের সভাপতি ওয়াজিদ তৌসিফ আরও বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় আমরা সফলভাবে এই আয়োজন সম্পন্ন করতে পেরেছি।’
আয়োজকেরা জানান, ‘অ্যাডউইজ ২.০’-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব বিজ্ঞাপন ও বিপণন জগতের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপে অংশগ্রহণকারীরা বিজ্ঞাপনের ধারণা তৈরি, গবেষণা, কৌশল নির্ধারণ, বাস্তবায়ন ও উপস্থাপনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
গ্র্যান্ড ফাইনালের বিচারক প্যানেলে ছিলেন বসুন্ধরা গ্লোবালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সাফওয়ান, ব্র্যান্ড ও বিপণন বিভাগের ইমরানুল কবির, এসিআইয়ের ফিল্ড মার্কেটিং অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক মাহমুদুর রহমান ভূঁইয়া এবং রেকিটের সরবরাহ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন।
আয়োজকদের মতে, তরুণদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কৌশলগত দক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি বাস্তব ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করাই ছিল ‘অ্যাডউইজ ২.০’-এর মূল লক্ষ্য।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক