এআই দিয়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের অভিযোগ, মেটার বিরুদ্ধে মামলা
ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতমূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে চিকিৎসা বা পারিবারিক ছুটিতে থাকা কর্মীদের অন্যায্যভাবে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ২৬ জন সাবেক কর্মী।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসে মেটা তাদের বৈশ্বিক কর্মীবাহিনীর প্রায় ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করে। কোম্পানিটি জানিয়েছিল, এআই ও ডেটা সেন্টার অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগের ব্যয় সামাল দিতেই কর্মীসংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ কমানো হয়।
মামলায় অভিযোগে বলা হয়েছে, কর্মী ছাঁটাইয়ের জন্য মেটা বেশ কয়েকটি এআই-সহায়ক সিস্টেম ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে ছিল ‘মেটামেট’, নামক একটি বৃহৎ ল্যাংগুয়েজ মডেল (এলএলএম) অ্যাসিস্ট্যান্ট; কর্মীদের নিজস্ব যোগাযোগ ও নথি ট্র্যাক করার জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় ‘সেকেন্ড ব্রেইন’, এবং কি-স্ট্রোক (টাইপিং), স্ক্রিন কন্টেন্ট, ইমেইল ও ব্রাউজার হিস্ট্রি স্ক্যান করে তৈরি করা একটি বিশেষ উৎপাদনশীলতা বা প্রোডাক্টিভিটি স্কোর।
তবে মামলাকারীদের দাবি, চিকিৎসা বা পারিবারিক ছুটিতে থাকা কিংবা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না পারা কর্মীদের ক্ষেত্রে এআই সিস্টেম প্রয়োজনীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নেয়নি। ফলে তারা অন্যায্যভাবে ছাঁটাইয়ের তালিকায় চলে যান।
মামলায় বলা হয়েছে, বাদী ২৬ জনই চাকরি হারানোর আগের ২৪ মাসের মধ্যে আইনগতভাবে সুরক্ষিত চিকিৎসা বা পারিবারিক ছুটি নিয়েছিলেন, ছুটির আবেদন করেছিলেন অথবা প্রতিবন্ধকতার কারণে বিশেষ সুবিধা চেয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যামিলি অ্যান্ড মেডিকেল লিভ অ্যাক্ট (এফএমএলএ) এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্যামিলি রাইটস অ্যাক্ট অনুযায়ী, এ ধরনের সুরক্ষিত ছুটি কর্মসংস্থানসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে নেতিবাচকভাবে বিবেচনা করা আইনবিরোধী। এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার ফেয়ার এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাক্ট প্রতিবন্ধকতা বা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যমূলক স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থাও নিষিদ্ধ করেছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে মেটা জানিয়েছে, কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি এআই নেয়নি। রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘কর্মী ব্যবস্থাপনা ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত মানুষই নিয়েছে, এআই নয়।’
এদিকে মামলাকারীরা আদালতের কাছে অনুরোধ করেছেন, এআই-সহায়ক ছাঁটাই প্রক্রিয়ার স্বাধীন নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মেটাকে ছাঁটাই কার্যক্রম স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হোক।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্মীদের কিবোর্ড, মাউস ও চ্যাটের তথ্য ব্যবহার করে এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল মেটা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের গোপনীয়তা আইন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর প্রতিষ্ঠানটি সেই কার্যক্রম স্থগিত করে।
সূত্র: এনগ্যাজেট

নিজস্ব প্রতিবেদক