ডিজিটাল শিক্ষার বিস্তারে সাশ্রয়ী ট্যাবের চাহিদা বাড়ছে দেশে
বাংলাদেশে ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার যত বাড়ছে, ততই শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত প্রযুক্তি ডিভাইসের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে ট্যাবলেট এখন আর বিলাসবহুল পণ্য নয়; বরং শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাসহায়ক ডিভাইস হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। অনলাইন ক্লাস, ই-বুক, শিক্ষা অ্যাপ ও ভার্চুয়াল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ট্যাবের চাহিদা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
স্মার্টফোনের তুলনায় বড় স্ক্রিন এবং ল্যাপটপের তুলনায় তুলনামূলক কম দামের কারণে ট্যাবলেট এখন অনেক পরিবারের কাছে বাস্তবসম্মত বিকল্প হয়ে উঠেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে থাকা ট্যাবগুলোর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। এই দামে অনলাইন ক্লাস, ভিডিও লেকচার দেখা, নোট পড়া এবং দৈনন্দিন শিক্ষামূলক কাজ সহজেই করা সম্ভব হচ্ছে।
অনলাইন শিক্ষার প্রসারে ট্যাবের গুরুত্ব বেড়েছে
করোনা মহামারির সময় থেকেই দেশে অনলাইন শিক্ষার গুরুত্ব নতুনভাবে সামনে আসে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভার্চুয়াল ক্লাসে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হাইব্রিড বা আংশিক অনলাইন ক্লাস চালুর প্রবণতাও দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আংশিক অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয় আলোচনায় আসায় ডিজিটাল ডিভাইসের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
কেন শিক্ষার্থীদের জন্য ট্যাব বেশি কার্যকর
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোনের তুলনায় ট্যাবলেট শিক্ষার্থীদের জন্য বেশি উপযোগী। বড় স্ক্রিনে পড়াশোনা সহজ হয়, চোখের ওপর চাপ কম পড়ে এবং একই সঙ্গে একাধিক শিক্ষামূলক অ্যাপ ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া ডিজিটাল নোট নেওয়া, ভিডিও লেকচার দেখা এবং অনলাইন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ-সবক্ষেত্রেই ট্যাব কার্যকর ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে স্মার্টফোনে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই বিনোদনমূলক কাজে বেশি সময় ব্যয় করে, যা পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
বাজারে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও বিকল্প
বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন দামের ও ব্র্যান্ডের ট্যাবলেট পাওয়া যাচ্ছে। যারা নির্ভরযোগ্য অ্যান্ড্রয়েড অভিজ্ঞতা চান, তাদের মধ্যে স্যামসাং ট্যাব-এর চাহিদা স্থিতিশীল। দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সাপোর্ট, পরিচিত ইউজার ইন্টারফেস এবং ব্যালান্সড পারফরম্যান্সের কারণে এই সিরিজ শিক্ষার্থী ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে।
অন্যদিকে, প্রিমিয়াম সেগমেন্টে আইপ্যাড এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। শক্তিশালী চিপসেট, দীর্ঘ সফটওয়্যার আপডেট এবং পড়াশোনা থেকে সৃজনশীল কাজ-দুই ক্ষেত্রেই কার্যকারিতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের বড় একটি অংশ আইপ্যাডকে অগ্রাধিকার দেন। বিশেষ করে ডিজিটাল নোট নেওয়া, ডিজাইন এবং প্রোডাক্টিভিটি কাজের জন্য এই ডিভাইসের চাহিদা স্থায়ী।
যারা তুলনামূলক কম বাজেটে বড় ডিসপ্লে ও নিয়মিত ব্যবহারের জন্য ডিভাইস খুঁজছেন, তাদের মধ্যে লেনোভো ট্যাব, অনার প্যাড এবং শাওমি প্যাড সিরিজ নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, অনলাইন ক্লাস, ভিডিও লেকচার, নোট পড়া এবং বিনোদনের জন্য এসব ট্যাব এখন জনপ্রিয় বিকল্প হয়ে উঠছে। দামের তুলনায় ফিচার বেশি থাকায় মধ্যম বাজেটের ক্রেতাদের মধ্যেও এই ব্র্যান্ডগুলোর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।
ক্রেতাদের কেনার প্রবণতায় পরিবর্তন
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন ক্রেতারা শুধু ডিভাইসের স্পেসিফিকেশন নয়, বরং অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং নির্ভরযোগ্য দামের বিষয়েও সচেতন হচ্ছেন। ফলে অনেকেই প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তিপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছেন। দেশের পরিচিত প্রযুক্তিপণ্য বিক্রেতাদের মধ্যে স্টার টেক-এ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ট্যাব একসঙ্গে তুলনা করে কেনার সুযোগ পাওয়া যায় বলে ব্যবহারকারীরা জানান। অনলাইন অর্ডার, ০% ইএমআই সুবিধা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেলিভারি সেবাও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।
বাজার আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা
বিশ্লেষকদের মতে, ট্যাব এখন শুধু একটি প্রযুক্তিপণ্য নয়; এটি শিক্ষার্থীদের শেখা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। স্কুল শিক্ষার্থী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া, এমনকি চাকরিপ্রত্যাশী ও ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যেও এর ব্যবহার বাড়ছে। ডিজিটাল শিক্ষা যত বিস্তৃত হবে, ততই ট্যাবের চাহিদা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে সঠিক বাজেটে উপযুক্ত ট্যাব নির্বাচন এখন অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়ে উঠেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক