অধিনায়কত্বের অভিষেক রাঙালেন সাহিবজাদা, শ্রীলঙ্কাকে হারাল পাকিস্তান
বাবর আজম ও সালমান আলী আঘার নেতৃত্বের অধ্যায় পেরিয়ে পাকিস্তানের দায়িত্বে এবার সাহিবজাদা ফারহান। নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়ে প্রথম ম্যাচেই ব্যাট হাতে ঝড় তুলে দলকে জেতালেন তিনি। চাপের মুহূর্তে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, অধিনায়কের দায়িত্ব শুধু দল পরিচালনায় নয়, পারফরম্যান্সেও তার ছাপ রাখতে হয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে নিজের অধিনায়কত্বের আনুষ্ঠানিক অভিষেক স্মরণীয় করে রাখলেন এই ওপেনার।
গতকাল শুক্রবার (৯ অক্টোবর) লাহোরের রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। সফরকারীদের দেওয়া ১৮২ রানের লক্ষ্য ৭ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। পাকিস্তানের জয়ের মূল কারিগর অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান। ১০টি চার ও ৪টি ছক্কায় মাত্র ৫৩ বলে ৮৯ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি।
এর আগে এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানকে দুটি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাহিবজাদা। তবে এই ম্যাচ দিয়েই পাকিস্তানের অধিনায়ক হিসেবে তাঁর আনুষ্ঠানিক অভিষেক হলো। আর প্রথম ম্যাচেই ব্যাট হাতে এমন দাপুটে পারফরম্যান্স তাঁকে এনে দিল স্মরণীয় এক জয়।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের মূল ভরসা ছিলেন লাহিরু উদারা। ওপেনিংয়ে নেমে ইনিংসের শেষ ভাগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান তিনি। ১৯তম ওভারে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ৫৫ বলে ৯১ রান করেন উদারা। তার ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ১টি ছক্কা।
উদারা ছাড়া শ্রীলঙ্কার আর মাত্র দুজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের রান করতে পেরেছেন। কামিন্দু মেন্ডিস ১৮ বলে ২৩ এবং দাসুন শানাকা ১৫ বলে ১৮ রান করেন। অন্যদের ব্যর্থতায় উদারার দুর্দান্ত ইনিংসও দলকে বড় সংগ্রহের পথে খুব বেশি এগিয়ে নিতে পারেনি। পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন নাসিম শাহ, নিয়েছেন ৩ উইকেট।
১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল পাকিস্তান। সাহিবজাদার সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে ৫৪ রান যোগ করেন ফখর জামান। ঈশান মালিঙ্গার বলে ফখর ফিরে গেলে ক্রিজে আসেন মাজ সাদাকাত। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করেন সাহিবজাদা ও সাদাকাত।
দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ৫২ বলে ৯২ রানের জুটি গড়েন দুজন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার বোলারদের চাপে ফেলে দেন তাঁরা। ৫০ রান করে মহীশ তিকশানার বলে সাদাকাত আউট হওয়ার সময় পাকিস্তানের সংগ্রহ ১৪৬ রান। ফলে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তোলার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায় স্বাগতিকদের।
তবে শেষ দিকে কিছুটা নাটকীয়তা তৈরি হয়। মাত্র ৩৩ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। কিন্তু ততক্ষণে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন সাহিবজাদা ও সাদাকাত। শেষ পর্যন্ত ৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।
অধিনায়কত্বের আনুষ্ঠানিক অভিষেকে ব্যাট হাতে ৮৯ রানের ইনিংস, দলের জয় এবং সামনে থেকে নেতৃত্ব–সব মিলিয়ে সাহিবজাদা ফারহানের জন্য ম্যাচটি হয়ে থাকল বিশেষ এক উপলক্ষ। পাকিস্তানের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের শুরুটা জয় দিয়ে রাঙিয়ে ভবিষ্যতের জন্যও নিজের বার্তা দিয়ে রাখলেন তিনি।

স্পোর্টস ডেস্ক