গোল-অ্যাসিস্ট সমান হলে কীভাবে নির্ধারণ হবে গোল্ডেন বুট?
বিশ্বকাপে একদিকে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন, অন্যদিকে ব্যক্তিগত অর্জনের লড়াই। সেই লড়াইয়ে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারগুলোর একটি হলো গোল্ডেন বুট। সর্বোচ্চ গোলদাতার এই পুরস্কার ঘিরে একাধিক তারকার মধ্যে চলছে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা। এরমধ্যে সামনে আসছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, গোল-অ্যাসিস্ট সমান থাকলে কীভাবে নির্ধারণ হবে বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের বিজয়ী?
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, গোল্ডেন বুট নির্ধারণে প্রথমে বিবেচনায় আসে গোলসংখ্যা। টুর্নামেন্টে যে খেলোয়াড় সবচেয়ে বেশি গোল করেন, তিনিই জিতে নেন এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। তবে দুই বা ততোধিক খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা সমান হলে তখন দ্বিতীয় মানদণ্ড হিসেবে দেখা হয় অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ সতীর্থদের দিয়ে বেশি গোল করানো খেলোয়াড় টাইব্রেকারে এগিয়ে থাকেন।
গোল ও অ্যাসিস্ট দুই ক্ষেত্রেই যদি খেলোয়াড়দের পরিসংখ্যান সমান থাকে, তখন কার্যকর হয় তৃতীয় ও শেষ টাইব্রেকার। এক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয় মাঠে কাটানো সময়। যে খেলোয়াড় কম মিনিট খেলেও একই সংখ্যক গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন, তাকেই এগিয়ে রাখা হয়। অর্থাৎ কম সময়ে একই অবদান রাখা ফুটবলারই পাবেন বাড়তি সুবিধা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসেও এই নিয়ম প্রয়োগের নজির রয়েছে। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে জার্মানির টমাস মুলার, স্পেনের ডেভিড ভিয়া, নেদারল্যান্ডসের ওয়েসলি স্নেইডার এবং উরুগুয়ের দিয়েগো ফোরলান চারজনই ৫টি করে গোল করেছিলেন। পরে অ্যাসিস্ট ও মাঠে কাটানো সময়ের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে টমাস মুলারকে গোল্ডেন বুট বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
বর্তমান বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুজনের গোলসংখ্যাই ৮টি করে। তবে অ্যাসিস্টে এগিয়ে আছেন মেসি। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের অ্যাসিস্ট ৪টি, যেখানে এমবাপ্পের অ্যাসিস্ট ৩টি। ফলে বর্তমান সমীকরণে টাইব্রেকারে এগিয়ে রয়েছেন মেসি।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের গোলসংখ্যা ৬টি করে এবং অ্যাসিস্টও ১টি করে। শেষ ম্যাচগুলোতে তাদের পারফরম্যান্স ভালো হলে গোল্ডেন বুটের সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই বিশ্বকাপের শেষ দুই ম্যাচ শুধু শিরোপার ভাগ্যই নির্ধারণ করবে না। একই সঙ্গে ঠিক করবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং গোল্ডেন বুট বিজয়ীর নামও।

স্পোর্টস ডেস্ক