কান্নাভেজা মেসি
কিছু কান্না থাকে, যা পরাজয়ের নয়, সময়ের সঙ্গে যুদ্ধে জেতার। লিওনেল মেসির চোখের জল তেমনই এক কান্না। এই টুর্নামেন্টেই তিনি বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, কেন তাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা বলা হয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে মনে করালেন আরেকবার।
শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিসরের বিপক্ষে যখন আর্জেন্টিনা বিদায়ের কিনারায়, তখন ৮৩ মিনিটে সমতাসূচক গোলটি করেছিলেন মেসিই। এর আগে যেন হঠাৎ করেই ডান প্রান্তে চলে গেলেন। রাইট উইং থেকে একের পর এক আক্রমণ গড়লেন, নিজের উপস্থিতিতেই বদলে দিলেন ম্যাচের ছন্দ। শুধু একজন ফরোয়ার্ড নয়, একজন নেতার মতো সামনে থেকে পথ দেখিয়ে দলকে জয় এনে দিলেন। সেই জয়েই আর্জেন্টিনা উঠে এল শেষ আটে।
কোয়ার্টার ফাইনালেও পরিসংখ্যান বলবে, তিনি পাঁচটি সুযোগ তৈরি করেছেন। দুটি শট নিয়েছেন। মাঝমাঠ থেকে বল টেনে এনে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙেছেন। একবার প্রায় গোল বানিয়ে ফেলেছিলেন, আরেকবার নিজেই গোলের খুব কাছে গিয়েছিলেন। সংখ্যাগুলো খারাপ নয়। কিন্তু কিংবদন্তিদের বিচার তো কেবল সংখ্যায় হয় না। তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায় নিজেরাই।
হয়তো সেই কারণেই শেষ বাঁশি বাজার পর মেসির চোখে জমে ছিল এতটা আক্ষেপ। তিনি জানতেন, সুযোগ ছিল। আর হয়তো এও জানতেন, ক্যারিয়ারের প্রতিটি সুযোগ আর ফিরে আসে না।
একজন ফুটবলারের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত তখনই আসে, যখন শরীর এখনো খেলতে চায়, কিন্তু সময় ধীরে ধীরে কাঁধে হাত রাখে। মেসি এখন সেই সীমারেখায় দাঁড়িয়ে। তবু, প্রতিটি ম্যাচে তিনি এখনও জাদু দেখান।
মহান খেলোয়াড়দের বিদায় কখনো কেবল একজনের বিদায় নয়। সেটি একটি যুগের শেষ অধ্যায়। আর সেই শেষ অধ্যায়ে চোখের জল দুর্বলতার ভাষা নয়; বরং অগণিত স্মৃতি, অসম্ভব প্রত্যাশা আর অপূর্ণতার প্রতি এক নিঃশব্দ শ্রদ্ধা। হয়তো মেসির এই কান্নাই আমাদের মনে করিয়ে দেবে—কিংবদন্তিরাও একদিন মানুষ হয়ে ওঠেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই তারা আরও বেশি অমর হয়ে যান।

স্পোর্টস ডেস্ক