ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল কলম্বিয়া
২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিল কলম্বিয়া। ২০২২ বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়ার হতাশা কাটিয়ে প্রত্যাবর্তনের আসরে নকআউট পর্বে ওঠার লক্ষ্য পূরণ করল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। শেষ ৩২-এর শেষ ম্যাচে জন আরিয়াসের প্রথমার্ধের একমাত্র গোলেই ঘানাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। পুরো ম্যাচজুড়ে সংগঠিত ফুটবল, শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং ধৈর্যশীল আক্রমণের প্রদর্শনীতে জয়টি নিজেদের করে নেয় তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। তবে শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই চোটের কারণে একজন করে খেলোয়াড় বদল করতে বাধ্য হন দুই কোচ। সেই ধাক্কা কাটিয়ে দ্রুত ম্যাচের ছন্দ নিজেদের দখলে নেয় কলম্বিয়া। বলের দখল ধরে রেখে ধারাবাহিক আক্রমণে ঘানার রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে তারা।
১৪তম মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। দারুণ এক দলীয় আক্রমণে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে নিখুঁত নিয়ন্ত্রিত শটে জাল খুঁজে নেন জন আরিয়াস। ঘানার গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। সেই গোলেই এগিয়ে যায় কলম্বিয়া।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় ঘানা। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত আক্রমণ গড়ে কয়েকবার কলম্বিয়ার রক্ষণে চাপ তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তের পাস ও ফিনিশিংয়ে সফল হতে পারেনি আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে, ড়ড়শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও আত্মবিশ্বাসী গোলকিপিংয়ে প্রতিটি আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয় কলম্বিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এক পর্যায়ে দুর্দান্ত এক দলীয় আক্রমণ শেষে বল জালে জড়ান লুইস দিয়াস। কিন্তু সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তোলায় সেই গোলটি বাতিল হয়। ব্যবধান না বাড়লেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতছাড়া হতে দেয়নি কলম্বিয়ানরা।
শেষ দিকে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ঘানা। লম্বা বল, দ্রুত আক্রমণ ও সেট-পিস থেকে একের পর এক সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও কলম্বিয়ার সুসংগঠিত রক্ষণে ভাঙন ধরাতে পারেনি তারা। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ১-০ গোলের মূল্যবান জয় নিয়ে উল্লাসে মাতে কলম্বিয়ানরা।
এই জয়ে ২০১৮ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল কলম্বিয়া। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২ থেকেই বিদায় নিতে হলো ঘানাকে। যদিও পুরো ম্যাচজুড়েই তারা লড়াই করে গেছে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।

স্পোর্টস ডেস্ক