ফুটবলের টানে এসে যুক্তরাষ্ট্রের খাবার ও সংস্কৃতিতে মুগ্ধ ভক্তরা
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রায় ৭৫ শতাংশ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। বাকি ম্যাচগুলো আয়োজন করছে মেক্সিকো ও কানাডা। এই বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশ্বের নানা দেশ থেকে আসা সমর্থকেরা শুধু ফুটবল নয়; যুক্তরাষ্ট্রের দৈনন্দিন জীবন ও সংস্কৃতিও নতুনভাবে দেখছেন।
মরক্কোর সমর্থক আয়ুব বাগদাদ যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রথমেই বিস্মিত হয়েছেন সবকিছুর আকার দেখে। তিনি বলেন, “সবকিছুই বড়, এমনকি কোকের বোতলও বড়। মরক্কোর তুলনায় এখানকার রাস্তা, ট্রাক ও ভবন অনেক বেশি বড় ও প্রশস্ত।”
যদিও কাতার বিশ্বকাপ ২০২২-এর তুলনায় এবার খরচ বেশি, তবু তিনি এই সফরকে জীবনের স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন।
বিদেশি সমর্থকদের অনেক অভিজ্ঞতাই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। কেউ প্রথমবার ওয়াফল হাউসে খাচ্ছেন। কেউ র্যাঞ্চ ড্রেসিংয়ের স্বাদ নিচ্ছেন। স্কটল্যান্ডের ভ্লগার শন বুকিজ নামে একটি বিশাল স্টোর-কমপ্লেক্স ঘুরে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। যেখানে একসঙ্গে কনভিনিয়েন্স স্টোর, রেস্তোরাঁ, পেট্রোল পাম্প ও সুপারমার্কেট রয়েছে।
খাবারের অভিজ্ঞতাও সমর্থকদের দৃষ্টি কেড়েছে। ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডের আইরে বালোগুন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের খাবার তার কাছে ইংল্যান্ডের তুলনায় বেশি সুস্বাদু। ফাস্ট ফুডসহ বিভিন্ন খাবারে স্বাদের বৈচিত্র্য রয়েছে, যা তাকে অবাক করেছে। অন্যদিকে মাদ্রিদ থেকে আসা পর্তুগিজ শিক্ষার্থীরা ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে চিপোটলে, শেক শ্যাকসহ বিভিন্ন চেইন রেস্তোরাঁ এবং স্থানীয় খাবারের দোকান ঘুরে দেখছেন।
অনেক সমর্থক রেস্তোরাঁয় বিনা মূল্যের চিপস ও সালসা এবং সফট ড্রিংকের ফ্রি রিফিল দেখে বিস্মিত হয়েছেন। ঘানায় জন্ম নেওয়া এবং বর্তমানে ইংল্যান্ডে বসবাসকারী ক্রিশ্চিয়ান বোয়াটেং জানান, তিনি অর্ডার করা খাবার শেষ করতে পারেননি। পাশাপাশি পণ্যের দামের সঙ্গে আলাদা করে বিক্রয় কর যোগ করার বিষয়টিও তার কাছে নতুন অভিজ্ঞতা।
আইরে বালোগুন ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ বিশ্বকাপের পরিবেশ কিছুটা ভিন্ন ও তুলনামূলকভাবে শান্ত। তার মতে, দেশে ফুটবল জনপ্রিয়তার দিক থেকে বেসবল, বাস্কেটবল ও আমেরিকান ফুটবলের মতো খেলার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়। তবু এই বিশ্বকাপ বিদেশি সমর্থকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা জানার এক নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

স্পোর্টস ডেস্ক