বয়স তো কেবলই সংখ্যা, মেসি যেনো এখনো তরুণ
পেনাল্টি মিস করে মুখ ঢেকে নিলেন লিওনেল। মলিন বদনে যেন রাজ্যের সমস্ত হতাশা আর বিষাদের ছায়া তাকে ঘিরে ধরেছে। কিছুক্ষণের জন্য তিনি স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। স্টেডিয়ামের উত্তাল পরিবেশের মাঝেও সেই মুহূর্তে তাকে একা মনে হচ্ছিল। যেন ব্যর্থতার ভারে পুরো পৃথিবীটাই থমকে গেছে। কিন্তু ফুটবল কখনো একটি ভুলে থেমে থাকে না। থেমে থাকে না মেসির গল্পও।
২০২৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ে আবারও নিজের জাদু ছড়িয়ে দেন মেসি। ৩৮ বছর বয়সেও তিনি ছিলেন ম্যাচের মূল নিয়ন্ত্রণকারী। দেখালেন বয়স তো কেবলই সংখ্যা মাত্র। মাঝমাঠে নেমে বলের গতি নির্ধারণ, দ্রুত পাসিং আর আক্রমণ তৈরি সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি। পুরো মাঠ জুড়ে তিনি চষে বেড়িয়েছেন, কখনো ডান পাশে, কখনো বাঁ পাশে, আবার মাঝমাঠ থেকে উঠে আক্রমণ শুরু করার কাজটিও করেছেন তিনি।
ম্যাচের শুরুতেই আসে সেই পেনাল্টি মিসের মুহূর্ত। সুযোগ হাতছাড়া হলেও মেসির চোখে মুখে ছিল অদ্ভুত স্থিরতা। কিছু সময়ের জন্য ভেঙে পড়লেও তিনি থেমে যাননি। আরও দৃঢ় হয়ে খেলায় ফিরে আসেন।
৩৮ মিনিটে বাঁ পায়ের নিখুঁত কার্ল শটে আসে প্রথম গোল। সেই গোল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এককভাবে আর্জেন্টিনার হাতে এনে দেয়। অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ বারবার ভেঙে পড়ছিল তার বুদ্ধিমত্তা ও গতির সামনে।
শেষদিকে যোগ করা সময়ে টাইট অ্যাঙ্গেল থেকে আসে তার দ্বিতীয় গোল। এই গোল শুধু জয় নিশ্চিত করেনি, বরং তাকে পৌঁছে দেয় বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে ১৮ গোলের মাইলফলকে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোল, যাকে পেছনে ফেলেন মেসি।
গোলের পর চেনা হাসিমুখে উদযাপন করেন মেসি। সেই হাসিতে ছিল স্বস্তি, আত্মবিশ্বাস আর ফুটবলের এক অনন্য শান্তি। কোটি ভক্তও যেন সেই মুহূর্তে তার আনন্দের অংশ হয়ে যায়। দূর থেকেই অনুভব করে এক কিংবদন্তির নতুন ইতিহাস লেখা।

ক্রীড়া প্রতিবেদক