পারল না রিয়াল মাদ্রিদ, ঘরের মাঠে জিতে সেমিতে বায়ার্ন
গোলের খেলা ফুটবলে রোমাঞ্চের সবটুকু ঢেলে দিল বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদ। দুই গোলরক্ষকের শিশুতোষ ভুল, পাল্টা আক্রমণ আর গোলের উৎসবে বারবার রঙ বদলাল ম্যাচের। কিন্তু নাটকীয়তার শেষ অঙ্কে বাজিমাত করল বায়ার্ন মিউনিখ। রিয়ালকে হারিয়ে জায়গা করে নিল সেমিফাইনালে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিনগত রাতে বায়ার্নের ঘরের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ গোলের ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে গেল বায়ার্ন। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি।
ম্যাচ শুরু হতে না হতেই আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় নেমে আসে নিস্তব্ধতা। মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের মাথায় বায়ার্ন গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ারের ভুলে গোল পেয়ে যায় রিয়াল। মাঝমাঠ থেকে আসা বল ব্যাকপাসে ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করে বসেন নয়ার। সেই সুযোগে দূরপাল্লার বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান আর্দা গিলের। রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটিই দ্রুততম গোল।
পিছিয়ে পড়ে দমে যায়নি বায়ার্ন। ৫ মিনিটের মাথায় জসুয়া কিমিখের কর্নার থেকে হেডে গোল করে সমতা ফেরান পাভলোভিচ। এখানে আবার ভুল করেন রিয়াল গোলরক্ষক লুনিন।
ম্যাচের ২৯তম মিনিটে আবারও লিড নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। ডি-বক্সের বাইরে ব্রাহিম দিয়াস ফাউলের শিকার হলে ফ্রি কিক পায় রিয়াল। অসাধারণ বাঁকানো শটে রক্ষণ দেয়ালের ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন ‘তুরস্কের মেসি।’ নয়ার ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও আটকাতে পারেননি।
প্রধমার্ধেই রক্ষণের ভুলে আবারও গোল হজম করে রিয়াল। উপামেকানোর পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে কোনাকুনি শটে মৌসুমে গোলের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কেইন।
কেইনের গোলের জবাব দিতেও বেশি সময় লাগেনি লস ব্লাঙ্কোদের। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের পাস ডি-বক্সে পেয়ে প্লেসিং শটে বল জালে জড়িয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪ সমতায় ফেরে রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের খেলায়ই কিছুটা ঢিলেতালে চলছিল। রক্ষণ সামলে তবেই মনযোগ দিচ্ছিল আক্রমণে। ম্যাচের ৮০তম মিনিটের খেলা চলছিল। তখনই কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ করে বসেন রিয়ালের বদলি নামা মিডফিল্ডার কামাভিঙ্গা।
কেইনকে অহেতুক ফাউল করে বল নিয়ে দৌঁড়াচ্ছিলেন কামাভিঙ্গা। রেফারি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে সাজঘরের পথ দেখান তাকে। এর আগে ৬৮তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াসের বদলি নামার ১০ মিনিটের মাথায় প্রথম হলুদ কার্ড দেখেছিলেন তিনি।
১০ জনের রিয়ালকে পেয়ে চেপে ধরে বায়ার্ন। ১০ জনের দল নিয়ে বেশি সময় আর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি আলভারো আরবেলোয়ার দল। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে লুইস দিয়াসের জোরাল শট এডার মিলিতাওয়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি।
আর চার মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে ওলিসের গোলে রেকর্ড ১৫ বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের সব আশা শেষ হয়ে যায়। একটু পরই বাজে শেষের বাঁশি। উল্লাসে ফেটে পড়ে বায়ার্ন শিবির। আর হতাশায় নুইয়ে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।

স্পোর্টস ডেস্ক