রিজভী-স্টাবসের ব্যাটে চড়ে লক্ষনৌকে হারাল দিল্লি
ব্যাটিংটা ভালো হয়নি লক্ষনৌ সুপার জায়ান্টসের। জিততে হলে দায়িত্ব নিতে হতো বোলারদের। শুরুটাও করেছিলেন প্রিন্স যাদব-মোহাম্মদ সামিরা। ধ্বংস্তূপে ফেলে দিয়েছিলেন দিল্লি ক্যাপিটালসকে। কিন্তু সামির রিজভী আর ত্রিস্তান স্টাবসের প্রতিরোধে জয় নিয়েই ফিরল দিল্লি।
বুধবার (১ এপ্রিল) একানা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ১৮.৪ ওভারে গুটিয়ে যাওয়ার আগে ১৪১ রান করেছে লক্ষনৌ। জবাব দিতে নেমে ১৭.১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দিল্লি। জয় তুলে নেয় ৬ উইকেটে।
মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং ধস দেখে দিল্লি ক্যাপিটালস। মাত্র ২৬ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারায় দলটি। গোল্ডেন ডাক মেরে ফেরেন ওপেনার কে এল রাহুল। ৫ বলে ১ রান আসে আরেক ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কার ব্যাট থেকে।
তিন নম্বরে নামা নিতিস রানা দেখেশুনে শুরু করেন। তবুও উইকেটে থিতু হতে পারেননি তিনি, বরং দলের ওপর চাপ বাড়িয়ে ফেরেন ১৭ বলে ১৫ রান করে। পাঁচ নম্বরে নেমে অক্ষর প্যাটেলও ফেরেন গোল্ডেন ডাক মেরে।
ধ্বংস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়েন সামির রিজভী আর ট্রিস্টান স্টাবস। লক্ষনৌর বোলারদের আর কোনো সুযোগই দেননি তারা। পঞ্চম উইকেটে ১১৯ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন রিজভী আর স্টাবস।
হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে রিজভী অপরাজিত থাকেন ৪৭ বলে ৭০ রানে আর স্ট্রাবস ৩২ বলে ৩৯ রানে।
লক্ষনৌর হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট শিকার করেন প্রিন্স যাদব। একটি করে উইকেট নেন মহসিন খান আর মোহাম্মদ সামি।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস। মিচেল মার্শ আর আব্দুল সামাদ বাদে আর কোনো ব্যাটার ২০ রানও করতে পারেনি। চরম ব্যাটিং ব্যর্থতায় দেড়শর আগেই থামতে হয়েছে তাদের।
দলীয় ১৯ রানের মাথায় রান আউটের শিকার হয়ে ফিরে যান অধিনায়ক রিশাভ পন্থ (৯ বলে ৭)। তিন নম্বরে নেমে এইডেন মার্করামও ফিরেছেন দ্রুতই (৮ বলে ১১)।
মিডল অর্ডারে ব্যর্থ হয়েছেন আয়ুশ বাধনী (৩ বলে ০) আর নিকোলাস পুরানও (৮ বলে ৮)। ওপেনিংয়ে নেমে একপ্রান্ত আগলে রাখা মিচেল মার্শও ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। দশম ওভারে ২৮ বলে ৩৫ রান করে ফেরেন তিনি।
ছয় নম্বরে নেমে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন আব্দুল সামাদ। বাকিদের ব্যর্থতার ভিড়ে দলের আশার প্রদ্বীপ হয়ে দাঁড়ান তিনি। শুরুটাও ভালোই করেছিলেন। তবে ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ফিরেছেন ২৫ বলে ৩৬ রান করে।
আব্দুল সামাদ ফিরলে লক্ষ্ণৌর আশার বাতিও নিভে যায়। ৮ বল বাকি থাকতেই গুটিয়ে যায় ১৪১ রানে। ১৬ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত থাকেন শাহবাজ আহমেদ।
দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট শিকার করেন নাটারাজন আর লুঙ্গি এনগিদি। দুটি উইকেট নেন ভিপরাজ নিগাম। একটি উইকেট যায় অক্ষর প্যাটেলে ঝুলিতে।

স্পোর্টস ডেস্ক