শেষ ওভারের থ্রিলার শেষে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ভারত
বোলিংয়ে দারুণ শুরুর পর দ্রুতই খেই হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। সান্জু স্যামসনের সহজ ক্যাচ ফেলে দিয়ে হ্যারি ব্রুক বিপদ ডেকে আনে ইংলিশদের। রানের পাহাড় দাঁড় করায় ভারত। জ্যাকব বেথেলের নজর কাড়া ইনিংসে সেই পাহাড়েরও প্রায় চূড়ায় চলে গিয়েছিল ইংলিশরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর চূড়ায় ওঠা হলো না ইংল্যান্ডের।
ঘরের মাটিতে ৭ রানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে টি-টেয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল ভারত। যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে নিউজিল্যান্ড।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৩ রান তোলে ভারত। জবাব দিতে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৪৬ রান করেছে ইংল্যান্ড।
রান তাড়ায় নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। দ্বিতীয় ওভারেই ৩ বলে ৫ রান করে ফিরে যান ফিল সল্ট। তিনে নামা অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকও ফিরেছেন দ্রুতই। ৬ বলে মাত্র ৭ রান করে।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন জস বাটলার আর জ্যাকবল বেথেল। কিন্তু ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেননি বাটলার। বরুণ চক্রবর্তীর বলে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে করেছেন ১৭ বলে ২৫ রান করে। পাঁচ নম্বরে নেমে ঝড় তোলার আভাস দেন টম ব্যান্টন। কিন্তু ৫ বলে ১৭ রান করে ফিরে যান তিনিও।
এরপর পঞ্চম উইকেট জুটিতে ইংলিশদের আশা দেখান বেথেল আর উইল জ্যাকস। ৩৯ বলে ৭৭ রানের জুটি গড়েন এই দুজন। দারুণ এক রিলে ক্যাচে জ্যাকসকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন আর্শদ্বীপ সিং। ২০ বলে ৩৫ রান করে ফেরেন জ্যাকস। জ্যাকস ফিরলে আবারও চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড।
বাকিদের এমন দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ের পরও একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন বেথেল। ভারতের বোলারদের শাসন করে ব্যাট করছিলেন ২০০ এর ওপরে স্ট্রাইকরেটে। সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ইংলিশদের আশা হয়ে ছিলেন তিনি।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৩০ রান প্রয়োজন ছিল ইংল্যান্ডের। ওভারের প্রথম বলে দুই রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে যান বেথেল। শেষ হয়ে যায় ইংলিশদের আশা। ফেরার আগে ৪৮ বলে ১০৫ রান করেন বেথেল। তার ইনিংস সাজানো ছিল ৮ চার আর ৭ ছক্কায়।
শেষ দিকে উইকেটে নেমে তিনটি ছক্কা হাকান জোফরা আর্চরার। তবে সেটি কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।
ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট শিকার করেন হার্দিক পান্ডিয়া। একটি করে উইকেট যায় আর্শদ্বীপ সিং, জাসপ্রিত বুমরাহ, বরুণ চক্রবর্তী আর অক্ষর প্যাটেলের ঝুলিতে।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্বা খায় ভারত। দলীয় ২০ রানের সময় ৭ বলে ৯ রান করে বিদায় নেন অভিষেক শর্মা। এরপর দ্রুতই দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু সান্জু স্যামসনের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক।
জীবন পেয়ে ইংলিশদের ক্যাচ মিচের মাশুল কড়ায় গণ্ডায় বুঝিয়ে দিয়েছেন স্যামনসন। জোফরা আর্চার-স্যাম কারানদের বেদম পিঠিয়েছেন তিনি। পুরো ইনিংসে দুইশর ওপরে স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করেছেন স্যামসন। ছিলেন টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির পথে। শেষ পর্যন্ত কিছুটা হতাশ হয়েই ফিরেছেন ৪২ বলে ৮৯ রান করে।
স্যামসনের এমন শুরুর পর ভারতের বাকিরাও চেষ্টা করেছেন আগ্রাসী ব্যাটিং করতে। সেই চেষ্টায় সফল হয়েছেন ইশান কিশান, শিভাম দুবে, হার্দিক পান্ডিয়ারা।
মাত্র ১৮ বলে ৩৯ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেছেন ইশান কিশান, ২৫ বলে ৪৩ রান করেছেন দুবে। শেষ দিকে ঝড় তুলেছেন হার্দিক পাণ্ডিয়া (১২ বলে ২৭), তিলক ভার্মা (৭ বলে ২১)। এতে আড়াইশ ছাড়ানো রানের পাহাড় গড়েছে ভারত।
ইংল্যান্ডের হয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট শিকার করেছেন উইল জ্যাকস ও আদিল রশিদ। একটি উইকেট পেয়েছেন জোফরা আর্চার।

স্পোর্টস ডেস্ক