মিমের দুনিয়ায় সুপরিচিত এই চেহারার পেছনে কে আছেন?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রমরমা এই সময়ে কিছু হলেই ‘মিম’ ভাইরাল হয়। হরেক রকম মিম দেখা যায় প্রতিদিন। তবে, গত ১০ বছর আগেও বিষয়টা অন্যরকম ছিল। মিম দুনিয়ার অনেকটা জায়গা নিয়ে ছিলেন শুধু একজন মানুষ। মানুষ না বলে বলা যায়, কেবলই একটি অবয়ব। যে মুখটি নিয়মিত দেখা যেত, সেটি কল্পনায় আঁকা কোনো ছবি নয়। ইয়াও মিং নামক এক অ্যাথলেটের একটি মুহূর্তকে তৈরি করা হয় মিম হিসেবে।
বাস্কেটবল অঙ্গনে ইয়াও মিং সুপরিচিত নাম হলেও আমাদের দেশে তিনি অচেনা। বাংলাদেশে বাস্কেটবল তেমন জনপ্রিয় নয় বলে তাকে না চেনা স্বাভাবিক। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার, আমরা সকলেই তাকে চিনি। ২০১০ সালে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তার এক সাংবাদিক বন্ধু’র তোলা ছবি যা পরবর্তীতে একজন চাইনিজ কার্টুনিস্টের ছোঁয়ায় পায় ভিন্নরূপ। সেই ছবিটি ফেসবুকে গিয়ে ভাইরাল হতে সময় নেয়নি!
পুরো বিংশ শতাব্দীতে যা ছবি তোলা হয়েছে তার দ্বিগুণেরও বেশি ছবি একবিংশ শতাব্দীর এক চতুর্থাংশ সময়েই তোলা শেষ। ছবি তোলা আজকাল হাঁচির চেয়েও স্বাভাবিক। হেঁচকি প্রতিদিন না উঠলেও ছবি তোলা হয়। এদের মাঝে কোনো কোনোটি তৈরি করে ইতিহাস, কোনটি জন্ম দেয় মিশ্র অনুভূতির।
ইয়াও মিং নামের চীনা ক্রীড়াবিদের অবস্থাও এমন ! খুশি হবেন না কি বেজার, ভাবতে ভাবতে অবসরও নিয়ে নিলেন। তিনি ভাবতে পেরেছেন কি না তা আমরা জানি না। আমরা জানতে চাই তাকে, ছবির আগে পরের এক বাস্কেটবল তারকাকে।
ইয়াও মিং একজন সফল চাইনিজ অ্যাথলেট। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান মিং বিখ্যাত তার উচ্চতার কারণে। ৭ ফিট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার মিংয়ের রক্তেই রয়েছে বাস্কেটবল খেলা। বাবা মা দুজনই পেশাদার বাস্কেটবলার ছিলেন। মজার ফ্যাক্ট, অস্বাভাবিক উচ্চতাও তার জিনগত। বাবার হাইট ৬ ফিট ৭, মায়ের ৬ ফিট ৩। তার স্ত্রী ইয়ে লি’র উচ্চতাও ৬ ফিট ৪ ইঞ্চি এবং সেও একজন বাস্কেটবল তারকা।
১৯৮০ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর সাংহাইয়ে জন্ম নেওয়া মিং ক্যারিয়ার শুরু করেন সাংহাই শার্কসের হয়ে। যতদিন খেলেছেন, গতি, জাম্পিং ও টেকনিক্যাল প্লেয়িংয়ে তুষ্ট করেছেন সবাইকে।
২০০২ সালে এনবিএতে (ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন) হাউস্টন রকেটের হয়ে অভিষিক্ত হন। ইয়াও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি পাঁচবার এনবিএর অলস্টার টিমে স্থান পেয়েছেন। চাইনিজ বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন (সিবিএ) তাকে তাদের হল অব ফেমেও জায়গা দিয়েছে। ইয়াও এনবিএর ইতিহাসের তার সময়ের সবচেয়ে লম্বা এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ উচ্চতার খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। আয় ও জনপ্রিয়তায় টানা ছয়বার জায়গা পেয়েছেন ফোর্বস ম্যাগাজিনের চাইনিজ সেলিব্রেটির তালিকায়।
মিংয়ের ক্যারিয়ারে অর্জন যথেষ্ট সমৃদ্ধ। নিঃসন্দেহে সেরা সাফল্য ২০০১, ০৩ ও ০৫ সালে টানা তিনবার দেশকে এশিয়ান বাস্কেটবলের স্বর্ণ জেতানো। এমনকি তিনটি টুর্নামেন্টেই তিনি পেয়েছিলেন মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ারের খেতাব।
এমন একজন সফল অ্যাথলেটের ক্যারিয়ার আরেকটু দীর্ঘ হতে পারত। কিন্তু, গোড়ালির চোটে ৩১ বছর বয়সেই অবসর নেন। ২০১১ সালের ২০ জুলাই নিজ শহর সাংহাইয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।
মিংকে নিয়ে এনবিএর প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘সে মেধা, পরিশ্রম, ডেডিকেশন ও মানবিকতার অনন্য মিশেল। তার সেন্স অব হিউমার অসাধারণ।’

স্পোর্টস ডেস্ক