সিলেটকে কাঁদিয়ে বিপিএলের ফাইনালে রাজশাহী
শেষ ওভারে সিলেট টাইটান্সের প্রয়োজন ছিল ২৪ রান, হাতে দুই উইকেট। দলটি তখনও হাল ছাড়েনি। কারণ একটাই, ক্রিজে ছিলেন ক্রিস ওকস। ২০তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ৪ বলে ১৮ রানের সমীকরণ আনেন ওকস। তবে, শেস পর্যন্ত মিরাকল ঘটেনি এদিন। বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে ১২ রানে হারতে হয়েছে সিলেটকে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান করে রাজশাহী। জবাবে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৩ রানে থামে ৮ উইকেটে।
রান তাড়ায় চতুর্থ বলেই উইকেট হারায় সিলেট। দলীয় ১ রানে সাজঘরে ফেরেন জাকির হাসান। আরিফুল ইসলাম বিদায় নেন ৭ রানে। দুজনের কেউই রানের খাতাও খুলতে পারেননি। তৃতীয় উইকেটে থিতু হন পারভেজ হোসেন ইমন ও স্যাম বিলিংস। ৬৯ রান আসে এই জুটিতে।
৩৪ বলে ৪৮ রান করে আউট হন ইমন। ২৮ বলে ৩৭ রানে থামেন বিলিংস। ১২ বলে ২১ রান করা আফিফ হোসেন কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তবে, সেভাবে হাল ধরতে পারেননি বাকিরা। ফলে ১০ বলে ১৫ রানে অপরাজিত থেকেও দলকে জেতাতে পারেননি ওকস।
রাজশাহীর জয়ের পেছনে বল হাতে বড় অবদান রেখেছেন। ৪ ওভারে ১৯ রানে নেন ৪ উইকেট। যেখানে ছিল শেষ ওভারে ওকসকে আটকানোর কৃতিত্ব।
ব্যাট করতে নেমে রাজশাহীর শুরুটা মন্দ ছিল না। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৪১ রান তোলেন দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান আর তানভীর। ২১ বলে ২৬ রান করে শাহিবজাদা ফিরলে ভাঙে সেই জুটি।
তানজিদ হাসান তামিম আরও কিছুটা সময় ব্যাট করেন। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভালো শুরুও পেয়েছিলেন তিনি। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১ চার আর ৪ ছক্কায় ১৫ বলে ৩২ রান করে ফেরেন তিনি।
এরপর মোটামুটি ছোটখাটো ব্যাটিং ধস দেখে রাজশাহী। মাত্র ১ রানের ব্যবধানে হারায় তিন উইকেট। দলীয় ৭৯ রানে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হন নাজমুল হোসেন শান্ত (১০ বলে ৭)। পরের বলে গোল্ডেন ডাক মেরে ফেরেন মুশফিকুর রহিম। স্কোরবোর্ডে ১ রান যোগ হতেই ফেরেন মেহরব হোসেন অহিনও (৩ বলে ০)।
তিন নম্বরে একপ্রান্ত আগলে রাখা কেইন উইলয়ামসন প্রতিরোধ গড়েন স্বদেশী জিমি নিশামকে নিয়ে। উইলিয়ামসন বিপিএলের অভিষেক ম্যাচেই নিজের ছাপ রাখেন দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে দুজন মিলে যোগ করেন ৭৭ রান।
উইলয়ামসন কিছুটা দেখেশুনে খেললেও ঝড়ো ব্যাটিং করেন নিশাম। ৭ বল বাকি থাকতে নিশামকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন ক্রিস ওকস। ২৬ বলে ৪৪ রান করে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ধরা পড়েন আরিফুলের হাতে।
উইলিয়ামসন মাঠ ছাড়েন অপরাজিত থেকেই। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ৪৫ রান করেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স : ২০ ওভারে ১৬৫/৯ (শাহিবজাদা ২৬, তামিম ৩২, শান্ত ৭, মুশফিক ০, মেহরব ০, নিশাম ৪৪, সাকলাইন ১, সাকিব ৫, রুবেল ১, উইলিয়ামসন ৪৫*; মিরাজ ৪-০-২৩-২, মঈন ১-০-১৮-১, সালমান ৪-০-২৪-৩, নাসুম ৪-০-২০-২, খালেদ ৩-০-৪১-০, ওকস ৪-০-১৮-১)
সিলেট টাইটান্স : ২০ ওভারে ১৫৩/৮ (ইমন ৪৮, জাকির ০, আরিফুল ০, বিলিংস ৩৭, মঈন ৭, আফিফ ২১, মিরাজ ৯, ওকস ১৫*, খালেদ ৪, নাসুম ৬*; বিনুরা ৪-০-১৯-৪, সাকিব ৪-০-৩৩-১, রুবেল ৩-০-৩৩-১, সাকলাইন ৪-০-১৯-১, মেহেরব ১-০-১৫-০, ৪-০-৩২-০)

ক্রীড়া প্রতিবেদক