বিপিএল প্লে-অফ
শেষ বলের থ্রিলারে কোয়ালিফায়ারে সিলেট
হারলেই বিদায় নিতে হবে টুর্নামেন্ট থেকে, জিতলে আশা বেঁচে থাকবে ফাইনাল খেলার। এমন সমীকরণের ম্যাচে ব্যাটিংটা ভালো হলো না রংপুর রাইডার্সের। সিলেট টাইটান্সের বোলারদের সামনে অসহায় হয়ে পড়েছিলেন তাওহিদ হৃদয়-কেইল মায়ার্স-লিটন দাসরা। ১১২ রানে সিলেট টাইটান্সকে আটকে রাখার লক্ষ্যে বোলাররা ম্যাচ নিয়ে গিয়েছিল শেষ বল পর্যন্ত। তাতেও অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ৬ রানের সমীকরণ মিলিয়ে সিলেটকে কোয়ালিফায়ারে তোলেন ক্রিস ওকস।
আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১১১ রান সংগ্রহ করেছে রংপুর। জবাব দিতে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে সিলেট। জয় পেয়েছে ৩ উইকেটে।
রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় সিলেট। ইনিংসের চতুর্থ বলে ডেভিড মালানের ক্যাচ বানিয়ে তৌফিক খান তুষারকে (৪ বলে ২) মুস্তাফিজুর রহমান। এরপর কিছুক্ষণ রংপুরের বোলারদের আক্ষেপ বাড়িয়ে সিলেট টাইটান্সকে এগিয়ে নেন পারভেজ হোসেন ইমন আর আরিফুল ইসলাম। ২৯ বলে ৩৬ রানের জুটি গড়েন এই দুজন।
এরপর দ্রুতই ৩ উইকেট তুলে নিয়ে সিলেটকে চেপে ধরে রংপুর। ১২ বলে ১৮ রান করা ইমনকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন আলিস আল ইসলাম। বেশি সময় আর উইকেটে টিকতে পারেনি আরিফুলও। ১৮ বলে ১৭ রান করা এই ব্যাটারকে ফেরান নাহিদ রানা। নিজের পরের ওভারে এসে আবার আফিফ হোসেনকে (৯ বলে ৩) বোল্ড করে ফেরান আলিস।
চাপে পড়া সিলেটের হাল ধরেন স্যাম বিলিংস আর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। পঞ্চম উইকেটে অর্ধশত রানের জুটিতে দলকে আশার দেখান এই দুজন। ২৩ বলে ১৮ রান করা মিরাজকে ফিরিয়ে রংপুরকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন খুশদিল শাহ। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে মুস্তাফিজ আর হৃদয়ের রসায়নে ফিরে যান বিলিংস। ফিজের বলে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন হৃদয়।
এরপর ম্যাচের পাল্লা আবারও ভারি হয় রংপুরের দিকে। শেষ ওভারে সিলেটের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৯ রান। প্রথম ৫ বল দারুণ করেছিলেন ফাহিম আশরাফ। চতুর্থ বলে মঈন আলিকে ফিরিয়ে দেন। শেষ বলে সিলেটের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৬ রান। ক্রিজ ওকস ছক্কা মেরে সেই সমীকরণ মেলান।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং ধ্বসে পড়ে রংপুর রাইডার্স। দলীয় রান ৩০ পেরোনোর আগেই হারায় ৪ উইকেট। দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ– টানা তিন ওভারে ৩ উইকেট হারায় রংপুর। ফিরে যান দুই ওপেনার তাওহিদ হৃদয় (৬ বলে ৪), ডেভিড মালান (৯ বলে ৪) আর তিন নম্বরে নামা লিটন দাস (৪ বলে ১)। পাওয়ার-প্লের পরের ওভারে ফিরে যান কেইল মায়ার্সও। তার ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ৮ রান।
ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর খুশদিল শাহ। চতুর্থ উইকেটে গড়েন ৩৪ রানের জুটি। খুশদিলকে ফিরিয়ে রংপুরের আশা জাগানিয়া এই জুটি ভাঙেন নাসুম আহমেদ। দ্রুতগতিতে রান তুললেও ইনিংস বড় করতে পারেননি খুশদিল। ফিরেছেন ১৯ বলে ৩০ রান করে।
এরপর সোহানকে নিয়ে আরেকটি ৩০ ছাড়ানো জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ। তবে এই জুটিও বড় করতে পারেননি তারা। মাহমুদউল্লাহকে ফিরিয়ে সেই জুটিও ভাঙেন নাসুম। মাহমুদউল্লাহ ফেরেন ২৬ বলে ৩৩ রান করে।
রংপুরের আশার আলো হয়ে ছিলেন ফাহিম আশরাফ আর নুরুল হাসান সোহান। ১৮তম ওভারে বোলিংয়ে জোড়া আঘাতে সেই আশার বাতিও নিভিয়ে দেন খালেদ আহমেদ। ওভারের তৃতীয় বলে ফাহিমকে (৫ বলে ৩) ফেরান ক্রিস ওকসের ক্যাচ বানিয়ে আর পঞ্চম বলে সোহানকে (২৪ বলে ১৮) ফেরান আফিফ হোসেনের ক্যাচ বানিয়ে।
এতেই শেষ হয়ে যায় রংপুরের লড়াই। শেষ ওভার উইকেটে কাটান মুস্তাফিজুর রহমান আর নাহিদ রানা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রংপুর রাইডার্স : ২০ ওভারে ১১১/৯ (হৃদয় ৪, মালান ৪, লিটন ১, মায়ার্স ৮, খুশদিল ৩০, মাহমুদউল্লাহ ৩৩, সোহান ১৮, ফাহিম ৩, আলিস ৪, মুস্তাফিজ ১*, নাহি ২*; ওকস ৪-০১৫-২, খালেদ ৪-০-১৪-৪, মঈন ৪-০-৩৯-০, সালমান ৩-০-১৯-১, মিরাজ ১-০-১১-০, নাসুম আহমেদ ৪-০-১২-২)
সিলেট টাইটান্স : ২০ ওভারে ১১২/৭ (তুষার ২, ইমন ১৮, আরিফুল ১৭, আফিফ ৩, বিলিংস ২৯, মিরাজ ১৮, মঈন ৫, ওকস ১০*, খালেদ ১*; মুস্তাফিজ ৪-০-২০-২, ৪-০-২৮-১, নাহিদ ৪-০-২১-১, আলিস ৪-০-১৮-২, খুশদিল ৪-০-২১-১)
ফলাফল : সিলেট টাইটান্স ৩ উইকেটে জয়ী।

ক্রীড়া প্রতিবেদক