ব্যাট-বলের ‘কমপ্লিট প্যাকেজ’, বিপিএলে ‘ডার্কহর্স’ সিলেট টাইটান্স
বিপিএলের মানচিত্রে এবার নতুন পরিচয়ে হাজির হচ্ছেন চায়ের দেশের প্রতিনিধিরা। দলটির নতুন নাম—‘সিলেট টাইটান্স’, বদলেছে মালিকানাও। ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘ক্রিকেট উইথ সামি’র হাত ধরে নতুন স্বপ্ন বুনছে সিলেট। কিন্তু প্রশ্ন হলো– কেমন হলো টাইটান্সদের স্কোয়াড? শক্তি আর দুর্বলতার সমীকরণ মিলিয়ে শিরোপার দৌড়ে তাদের অবস্থান ঠিক কোথায়? এনটিভির পাঠকদের সেসব বিশ্লেষণ।
নিলামের আগেই নিজেদের লক্ষ্য পরিষ্কার করেছিল সিলেট। সরাসরি চুক্তিতে তারা দলে ভেড়ায় জাতীয় দলের পরীক্ষিত অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ ও স্পিনার নাসুম আহমেদকে। মূলত মিরাজের নেতৃত্বগুণ ও অলরাউন্ড সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করেই দল সাজিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বিদেশি কোটায় তাদের নজর ছিল পাকিস্তানের অভিজ্ঞ মোহাম্মদ আমির আর অলরাউন্ডার সাইম আইয়ুবের ওপর।
নিলামের টেবিলে সিলেটের নজর ছিল দেশি ক্রিকেটারদের ওপর। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ফর্মে থাকা ক্রিকেটারদের দলে ভিড়িয়েছে তারা। ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করায়, সেটি খুঁজে পেতে খুব বেশি কষ্ট পেতে হয়নি তাদের।
পারভেজ হোসেন ইমন, রনি তালুকদার, জাকির হাসান, মুমিনুল হক, তৌফিক খান তুষারদের নিয়ে টপঅর্ডার সাজাতে চেষ্টা করেছে সিলেট। বোলিংয়ে সিলেটের তিন ঘরের ছেলে পেসার খালেদ আহমেদ, রুয়েল মিয়া ও ইবাদত হোসেনের সঙ্গে শহিদুল ইসলাম দেশি শক্তি।
তবে নিলামের আগে-পরে মিলিয়ে সিলেট টাইটান্সের দল গঠন দেখে স্পষ্ট—অলরাউন্ডার দিয়ে মিডল অর্ডার শক্ত করার চেষ্টা করেছে তারা। ফলে বেড়েছে বোলিংয়ের শক্তিও। সিলেটের শক্তির জায়গাও এ দুটি।
আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন অলরাউন্ডাররা। ব্যাট এবং বল দুই বিভাগেই সমানতালে পারফর্ম করেন তারা। বলা যায়, একাই ভূমিকা রাখেন দুজন ক্রিকেটারের। এখানেই সর্বেসর্বা সিলেট টাইটান্স। সবগুলো দলের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে তারা।
দেশি মেহেদী হাসান মিরাজ, পাকিস্তানের সাইম আইয়ুব, লঙ্কান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ, ইংলিশ মঈন আলি ও ইথান ব্রুকস, আফগান আজমতুল্লাজ ওমরজাই— সবাই প্রোপার অলরাউন্ডার। যাদের ওপর ব্যাট এবং বল দুই বিভাগেই ভরসা রাখা যায়। বাংলাদেশের মাটিতে বেশ কার্যকরও তারা। সিলেট চাইলে এদের মধ্য থেকেই ২০ ওভারের মধ্যে অন্তত ১০-১২ ওভার বল করিয়ে নিতে পারবে।
স্কোয়াডে অধিক অলরাউন্ডার থাকায় আরও একটি সুবিধা পাবে সিলেট। মঈন আলী-ওমরজাইদের দিয়ে বোলিং করিয়ে নিতে পারায় চাইলেই একাদশে বাড়িয়ে নিতে পারবে ব্যাটারদের সংখ্যা। এতে বাড়বে সিলেটের ব্যাটিং ডেপথ। যেটি ব্যাটিংয়ে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে দলটিকে।
সিলেটের মিডলঅর্ডারেও ভরসা থাকবে এই অলরাউন্ডারদের ওপরই। ৫-৬ নম্বরে মঈন আলি ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ, ৭ নম্বরে মেহেদী হাসান মিরাজ, ৮ নম্বরে আজমতুল্লাহ ওমরজাইদের দেখা যেতে পারে। যদিও শুরুর দিকের কয়েকটি ম্যাচে ওমরজাই আর মঈন আলিকে পাবে না সিলেট। আইএল টি-টেয়েন্টিতে তাদের দল গলফ জায়ান্ট এলিমিনেটরের দৌঁড়ে থাকায় সিলেটকে অপক্ষো করতে হবে অন্তত ৩-৪টি ম্যাচ। এই সময়ে ওমরজাইয়ের অভাব পূরণ করবেন ইংল্যান্ডের ইথান ব্রুকস।
শুরুর দিকে সিলেটের ওপেনিংয়ে সাইম আইয়ুবের সঙ্গে দেখা যাবে পারভেজ হোসেন ইমনকে। মুমিনুল হক, রনি তালুকদার, জাকির হাসান—এই তিন জনের মধ্যে দুজনকে দেখা যাবে তিন ও চার নম্বরে। পাঁচ নম্বরে দেখা যেতে পারে শ্রীলঙ্কান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে। ছয় নম্বর জায়গাটা নেবেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
পরের পজিশনে দেখা যেতে পারে ইংলিশ অলরাউন্ডার ইথান ব্রুকসকে। সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ফর্মে থাকা এই ব্যাটারের পজিশন শিফটও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ বোলার হিসেবে মোহাম্মদ আমির দায়িত্ব নেবেন বোলিং বিভাগের। তার সঙ্গে খালেদ আহমেদ অথবা ইবাদত হোসেনকে দেখা যেতে পারে। স্পিনার হিসেবে নাসুম আহমেদের ওপর আস্থা রাখা হতে পারে।
টুর্নামেন্টের মাঝখানে হয়ত জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করতে দেশে ফিরবেন সাইম আইয়ুব। তখন তার জায়গা রিপ্লেস করতে পারেন অ্যারন জোন্স। তবে সেই সময় ওমরজাই আর মঈন আলী দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় সেই সম্ভাবনা কিছুটা কম। হয়তো দেশি কাউকে দিয়ে সেই জায়গা পূরণ করা হবে।
সিলেট টাইটান্সের টপঅর্ডারে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও মিডল অর্ডার বেশ শক্ত। যেকোনো দলের জন্য মাথাব্যথার কারণ হতে পারে এটি। সেই সঙ্গে বোলিংয়েও ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে টাইটান্সরা। এই দুই বিভাগের শক্তি নিয়ে এবারের বিপিএলে ‘ডার্কহর্স’ সিলেট। শিরোপার জন্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি তারা।
সিলেট টাইটান্সের স্কোয়াড
দেশি ক্রিকেটার : মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, পারভেজ হোসেন ইমন, খালেদ আহমেদ, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মুমিনুল হক, রনি তালুকদার, জাকির হাসান, রুয়েল মিয়া, আরিফুল ইসলাম, ইবাদত হোসেন, শহিদুল ইসলাম, রাহাতুল ফেরদৌস জাবেদ ও তৌফিক খান তুষার।
বিদেশি ক্রিকেটার : মোহাম্মদ আমির (পাকিস্তান), সাইম আইয়ুব (পাকিস্তান), সালমান ইরশাদ (পাকিস্তান), অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস (শ্রীলঙ্কা), অ্যারন জোন্স (ইউএসএ), আজমুতল্লাহ ওমরজাই (আফগানিস্তান), ইথান ব্রুকস (ইংল্যান্ড)।

নাজমুল সাগর