কুর্নিকোভা : যেভাবে সব বদলে দিয়েছিল গ্ল্যামার
১৯৯৭ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে উইম্বলডনের ফাইনালে উঠে টেনিসবিশ্বে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন আনা কুর্নিকোভা। তার পর অবশ্য খুব বেশি সফলতা পাননি টেনিস কোর্টে। মেয়েদের এককে জিততে পারেননি একটিও শিরোপা। কিন্তু গ্ল্যামার দিয়ে পুরো টেনিসবিশ্বের ওপর দুর্দান্ত প্রভাব ফেলেছিলেন রাশিয়ার এই লাস্যময়ী তারকা।
টেনিস কোর্টে খুব বেশি সাফল্য না পাওয়ার জন্য অবশ্য কখনোই আক্ষেপ করতে হয়নি কুর্নিকোভাকে। কোর্টের বাইরে এমনভাবে একের পর এক সাফল্য পেয়েছেন, যা খুব কমই দেখা গেছে ক্রীড়াবিশ্বে। গ্ল্যামারের ঝলক দিয়ে করেছেন কোটি কোটি ডলারের চুক্তি। সুন্দরী কুর্নিকোভার আকর্ষণে এমন অনেকে টেনিসের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন, যাঁরা এমনিতে খেলাটার ওপর খুব বেশি আগ্রহী ছিলেন না। ২০০১ সালে একটা কম্পিউটার ভাইরাসের নামও দেওয়া হয়েছিল ‘আনা কুর্নিকোভা’। আর এটা এতই শোরগোল ফেলেছিল যে তা জায়গা করে নিয়েছিল আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘ফ্রেন্ডস’-এর একটি এপিসোডে।
এই শতাব্দীর শুরুতে কুর্নিকোভার গ্ল্যামার কীভাবে টেনিসকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তুলেছিল, তা বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁর সাবেক কোচ কেন মেরিত বলেছেন, ‘নির্মাণ শ্রমিক, ব্যবসায়ীরাও টেনিস দেখা শুরু করেছিল। কুর্নিকোভা খেলা শুরু করার পর থেকে মেয়েদের টেনিস করেছিল বেশ কয়েকটি বড় সম্প্রচার চুক্তি। সে এই খেলাটার জন্য এমন অনেক কিছু করেছে, যা হারজিতের পরিসংখ্যান দিয়ে মাপা যাবে না।’
টেনিসের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজকরা খুব ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছিলেন কুর্নিকোভার লাস্যময়তার আকর্ষণকে। বিজ্ঞাপনে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা অনেক তারকার চেয়ে প্রাধান্য দেওয়া হতো কুর্নিকোভাকে। তাঁর আরেক সাবেক কোচ সে সময়ের কথা স্মরণ করে বলেছেন, ‘আমরা যখন বড় কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতাম, তখন খেয়াল করতাম যে কুর্নিকোভা অনুশীলনের সময়ও অনেক দর্শক আকৃষ্ট করত। এমনকি একই সময়ে পাশে যদি বড় কোনো তারকার ম্যাচও থাকত, তবুও অনেকে কুর্নিকোভার অনুশীলনই দেখত।’
কুর্নিকোভা নিজেও আর্থিকভাবে দারুণ লাভবান হয়েছিলেন তাঁর গ্ল্যামারের জন্য। ১৯৯৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ১২ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে প্রাইজমানি থেকে তিনি আয় করেছিলেন ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী চুক্তি থেকে বার্ষিক আয় করেছিলেন ১০ মিলিয়ন ডলার। তবে গ্ল্যামারকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে প্রতিশ্রুতিশীল টেনিস ক্যারিয়ারের বিকাশ ঘটাতে পারেননি বলে মন্তব্য করেছেন কুর্নিকোভার সাবেক মার্কেটিং ম্যানেজার স্কিলিং। তিনি বলেছেন, ‘টেনিসবিশ্ব কুর্নিকোভাকে একটা বিপণন-দৈত্যে পরিণত করেছিল, যেটা শেষ পর্যন্ত নিজেকেই খেয়ে ফেলেছে। পেশাদার অ্যাথলেটদের ক্যারিয়ারে খুবই কম সময় থাকে। সে সময়ে তাঁদের যেতে হয় খেলাটার শীর্ষে। কিন্তু চারপাশে যদি এত অন্যান্য জিনিসপত্র চলতে থাকে, তাহলে সেটা খেলাটার ওপরও প্রভাব ফেলবে।’ এখন যদি আবার কুর্নিকোভার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হতো, তাহলে রাশিয়ান এই তারকাকে খেলার দিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিতেন বলে জানিয়েছেন স্কিলিং।
মেয়েদের এককে কোনো সাফল্য না পেলেও দ্বৈতে দুবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা জিতেছিলেন কুর্নিকোভা। ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত লড়েছেন ইনজুরির সঙ্গে। ২০০৪ সাল থেকে বেশির ভাগ সময় খেলেছেন বিভিন্ন প্রদর্শনী আর দাতব্য ম্যাচ। আর ২০০৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় বলেছেন টেনিসকে।

স্পোর্টস ডেস্ক