‘স্পট মার্কেটের বিদ্যমান নানা ঝুঁকি কমাবে কমোডিটি মার্কেট’
আমাদের অর্থনীতিতে একটি কার্যকর কমোডিটি মার্কেটের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বিশেষ করে স্পট মার্কেটে বিদ্যমান নানা ঝুঁকি কমোডিটি মার্কেট চালুর মাধ্যমে অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন এ বিষয়ে সিএসইর সাথে কাজ করবে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, সিএসইর তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কমোডিটি মার্কেট চালুর দ্বারপ্রান্তে আমরা। এই সেমিনারের মাধ্যমে কমোডিটি মার্কেট স্থাপনের জন্য চলমান বিশাল কর্মযজ্ঞের বিস্তারিত জেনে আমরা বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত। আমাদের অর্থনীতিতে একটি কার্যকর কমোডিটি মার্কেটের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বিশেষ করে স্পট মার্কেটে বিদ্যমান নানা ঝুঁকি কমোডিটি মার্কেট চালুর মাধ্যমে অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করি। খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন এ বিষয়ে সিএসইর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
আব্দুস সালাম বলেন, আজকের সেমিনারের পর আরও কর্মশালা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক প্রোগ্রামের আয়োজন করা প্রয়োজন। কমোডিটি মার্কেট সম্পর্কে আমাদের আরও জানতে এবং শিখতে হবে। আশা করি, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি নতুন মার্কেটের আগমন বাস্তব সম্ভাবনায় রূপ নেবে এবং এটি বিনিয়োগের একটি উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
সিএসইর পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ হচ্ছে বিপুল সম্ভাবনাময় মার্কেট। বিশ্বের বিভিন্ন কমোডিটি মার্কেটে লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশে কমোডিটি মার্কেট যাত্রা শুরু করলে পুঁজিবাজারের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও লাভবান হবে। তিনি বলেন, গত তিন বছর ধরে সিএসই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং লেনদেন পরিচালনার জন্য প্ল্যাটফর্মও প্রস্তুত, বর্তমানে মার্কেটের অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুতির কাজ চলছে। সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় অবশিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হলে খুব শিগগিরই এই যুগান্তকারী নতুন এক্সচেঞ্জের যাত্রা শুরু হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান এমনকি মিয়ানমারেও কমোডিটি এক্সচেঞ্জ রয়েছে। বাংলাদেশের আর্থিক কাঠামোতে একটি কার্যকর কমোডিটি মার্কেট অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান। এই মার্কেট বিনিয়োগকারীকে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং বিদ্যমান আর্থিক বাজার কাঠামোয় একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। তিনি বলেন, একটি স্ট্যান্ডার্ড কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু হলে পণ্যের মূল্য-অস্থিরতা ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হবে, সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং দেশের জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। সিএসই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং মার্কেট ইকোসিস্টেমের সব অংশের প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই ইকোসিস্টেমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেন মার্কেট অংশগ্রহণকারীরা। তাদের প্রস্তুত করার লক্ষ্যে সিএসই কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আশা করব এই খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলো এই নতুন প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন এবং আসন্ন কমোডিটি মার্কেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখবেন।
সেমিনারে প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময় পর্বে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হয়। এ সময় কমোডিটি মার্কেটের কার্যক্রম, এর প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাবনা এবং বাজারে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি বিষয়ে আরও বেশি সচেতনতামূলক সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ আয়োজনের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় খুব দ্রুত কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠা এবং লেনদেন কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করা হয়। সিএসই বরাবরই দেশের পুঁজিবাজারে নতুন পণ্য ও সেবা প্রবর্তনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় রেগুলেটরি ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে মার্কেট প্রস্তুতির কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। সিএসই আশাবাদী, খুব শিগগিরই কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই নতুন মার্কেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক