পুঁজিবাজারে নিরাপদ বিনিয়োগের সেরা জ্বালানি ও ব্যাংক
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে এসেছে। গত সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পিই রেশিও হিসেবে ডিএসইতে বিনিয়োগ সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজারের বিশ্লেষকেরা। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডিএসইতে খাতভিত্তিক হিসেবে তিনটি খাত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।
আলোচিত এই তিন খাতের মধ্যে জ্বালানি ও শক্তিতে বিনিয়োগ বেশি নিরাপদে রয়েছে। এরপর বিনিয়োগে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক ও ওষুধ রসায়ন খাত। আলোচিত এই তিন খাতের পিই রেশিও সিঙ্গেল ডিজিটে অবস্থান করছে। সেই হিসেবে খাত তিনটিতে বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। তবে খাতভিত্তিক হিসেবে বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সিরামিক খাত।
এদিক পুঁজিবাজারের কোনো কোম্পানির পিই রেশিও যদি সিঙ্গেল ডিজিটে থাকে, তাহলে সেখানে বিনিয়োগ সম্পূর্ণ নিরাপদ ধরে নেওয়া হয়। এ ছাড়া পিই রেশিও ডিজিট যদি ১৫ পয়েন্ট পর্যন্ত অবস্থান করে, তবে সেখানেও বিনিয়োগ নিরাপদ বলে ধরা হয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) মার্জিন ঋণের যোগ্যতা হিসাবে সর্বোচ্চ ৪০ পিই রেশিও বেঁধে দিয়েছে। সেই হিসেবে ৪০ পর্যন্ত পিইধারীর শেয়ার বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ বলে জানায় বিএসইসি।
গত সপ্তাহে ডিএসইর পিই রেশিও দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ পয়েন্ট। সেই হিসেবে ডিএসইতে বিনিয়োগ নিরাপদ অবস্থানে আছে। তেমনি বিনিয়োগ ক্ষেত্রে ডিএসইর বেশিরভাগ খাতই নিরাপদে রয়েছে। গত সপ্তাহে জ্বালানি ও শক্তি খাতটিতে পিই রেশিও অবস্থান করেছে পাঁচ দশমিক ৩০ পয়েন্টে। পিই রেশিও হিসেবে এই খাতের পরেই বিনিয়োগ নিরাপদে অবস্থান রয়েছে ব্যাংক খাত। এই খাতের পিই রেশিও ছয় দশমিক ৪৯ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। পিই রেশিও ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৯ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। অপরদিকে, সিরামিক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছিল ১৩৪ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে। পিই রেশিও হিসেবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই খাতটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে অবস্থান করেছে।
এদিন খাতভিত্তিক হিসেবে পিই রেশিও নন ব্যাংক আর্থিক খাতে ১০ দশমিক শূন্য দুই পয়েন্ট, টেলিকম খাতে ১২ দশমিক শূন্য চার পয়েন্ট, সিমেন্ট খাতে ১২ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট, বস্ত্র খাতে ১২ দশমিক ৭৯ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ১২ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট, প্রকৌশল খাতে ১৩ দশমিক ৮২ পয়েন্ট, সেবা আবাসন খাতে ১৪ দশমিক ৫১ পয়েন্ট, বিবিধ খাতে ১৪ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট, বিমা খাতে ১৫ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট, ভ্রমণ অবকাশ খাতে ১৫ দশমিক ৮১ পয়েন্ট, আইটি খাতে ১৯ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট, খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতে ২১ দশমিক ১০ পয়েন্ট, পাট খাতে ২২ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট, পেপার ও প্রিন্টিংয়ের ২৪ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট ও চামড়া খাতে ৪৭ দশমিক ১৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক