লেনদেনের শীর্ষে সিটি ব্যাংক, এক লাফে মূলধন বাড়ল ৬৩৯ কোটি টাকা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংকের ২২৬ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে সদ্যসমাপ্ত সপ্তাহে, যা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট লেনদেনের ছয় দশমিক ২৬ শতাংশ। লেনদেনের শীর্ষে ওঠা কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর বেড়েছে চার টাকা ২০ পয়সা। এতে কোম্পানিটির বাজার মূলধন বেড়েছে ৬৩৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা যায়, ডিএসইতে গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সিটি ব্যাংকের শেয়ারের সমাপনী দর দাঁড়ায় ৩৩ টাকা। আগের সপ্তাহের ১৯ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ২৮ টাকা ৮০ পয়সা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি দর বেড়েছে চার টাকা ২০ পয়সা বা ছয় দশমিক ২৬ শতাংশ।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মোট শেয়ারের মাধ্যমে বাজারে মূলধন দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ২০ কোটি তিন লাখ ২৮ হাজার ২৭৭ টাকা, যা আগের সপ্তাহের ১৯ ফেব্রুয়ারিতে ছিল চার হাজার ৩৮১ কোটি ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮৭ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে মূলধন বেড়েছে ৬৩৮ কোটি ৯১ লাখ ৩২ হাজার ৬৯০ টাকা। গেল সপ্তাহে ৪১৩টি কোম্পানির তিন হাজার ৬২৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সেখানে সপ্তাহটিতে ব্যাংকটির ২২৬ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পিই রেশিও দাঁড়ায় পাঁচ দশমিক ২১ পয়েন্টে। পিই রেশিও অনুসারে কোম্পানিতে বিনিয়োগ নিরাপদে রয়েছে। পুঁজিবাজারের কোনো কোম্পানির পিই রেশিও যদি সিঙ্গেল ডিজিটে থাকে, তাহলে সেখানে বিনিয়োগ সম্পূর্ণ নিরাপদ ধরে নেওয়া হয়। এছাড়া পিই রেশিও ডিজিট যদি ১৫ পয়েন্ট পর্যন্ত অবস্থান করে, তবে সেখানেও বিনিয়োগ নিরাপদ বলে ধরা হয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) মার্জিন ঋণের যোগ্যতা হিসাবে সর্বোচ্চ ৪০ পিই রেশিও বেঁধে দিয়েছে। সেই হিসেবে ৪০ পর্যন্ত পিইধারীর শেয়ার বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ বলে জানায় বিএসইসি। অর্থাৎ পিই রেশিও ৪০ এর ওপরে গেলে বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পিই রেশিও যত বাড়বে ঝুঁকির মাত্রা তত বাড়তে থাকবে।
কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদনে সিটি ব্যাংকের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে দুই টাকা ৭৭ পয়সা। আগের বছরের (২০২৪ সাল) একই সময়ে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল এক টাকা ৩২ পয়সা। চলতি বছরের তিন প্রান্তিক (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে চার টাকা ৭৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল দুই টাকা ৯৬ পয়সা। চলতি বছরে কোম্পানিটির তিন প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ হয়েছে ৩৭ টাকা ৮২ পয়সা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ৯ পয়সা।
এর আগে ২০২৪ সমাপ্ত বছরে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) জন্য সাধারন বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ এবং ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ছিল। ওই বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছিল সাত টাকা ৫৩ পয়সা। সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ হয়েছিল ৬৬ টাকা ৪৪ পয়সা। সমন্বিত শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছিল ৩৪ টাকা ৩৯ পয়সা। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি লোন দাঁড়িয়েছিল এক হাজার ১৯২ কোটি টাকা।
১৯৮৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় সিটি ব্যাংক। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন দুই হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ৫২১ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার টাকা। শেয়ারসংখ্যা ১৫২ কোটি ১২ লাখ ২২ হাজার ৬৯টি। রিজার্ভে রয়েছে দুই হাজার ৯৬১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। গত ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৩০ দশমিক ৩৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, বিদেশিদের হাতে পাঁচ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক