লেনদেনে শীর্ষে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, মূলধন বাড়ল ৪৭ কোটি টাকা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের প্রতিষ্ঠান এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের ৭০ কোটি ৮৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে, যা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট লেনদেনের তিন দশমিক ৭০ শতাংশ। লেনদেনের শীর্ষে ওঠা কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর বেড়েছে তিন টাকা ৯০ পয়সা। এতে কোম্পানিটির বাজার মূলধন বেড়েছে ৪৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা যায়, ডিএসইতে গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারের সমাপনী দর দাঁড়ায় ৬৮ টাকা ৪০ পয়সা। আগের সপ্তাহের ৫ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ৬৪ টাকা ৫০ পয়সা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি দর বেড়েছে তিন টাকা ৯০ পয়সা বা ছয় দশমিক শূন্য চার শতাংশ।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মোট শেয়ারের মাধ্যমে বাজারে মূলধন দাঁড়িয়েছে ৮৩৭ কোটি ১৭ লাখ ১২ হাজার ৩২২ টাকা, যা আগের সপ্তাহের ৫ ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৭৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮৪৭ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে মূলধন বেড়েছে ৪৭ কোটি ৭৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪৭৪ টাকা। গেল সপ্তাহে ৪১৩টি কোম্পানির এক হাজার ৯১৪ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সেখানে সপ্তাহটিতে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের ৭০ কোটি ৮৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা মোট লেনদেনের তিন দশমিক ৭০ শতাংশ।
গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পিই রেশিও দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ২৬ পয়েন্টে। পিই রেশিও অনুসারে কোম্পানিতে বিনিয়োগ নিরাপদে রয়েছে। পুঁজিবাজারের কোনো কোম্পানির পিই রেশিও যদি সিঙ্গেল ডিজিটে থাকে, তাহলে সেখানে বিনিয়োগ সম্পূর্ণ নিরাপদ ধরে নেওয়া হয়। এছাড়া পিই রেশিও ডিজিট যদি ১৫ পয়েন্ট পর্যন্ত অবস্থান করে, তবে সেখানেও বিনিয়োগ নিরাপদ বলে ধরা হয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) মার্জিন ঋণের যোগ্যতা হিসাবে সর্বোচ্চ ৪০ পিই রেশিও বেঁধে দিয়েছে। সেই হিসেবে ৪০ পর্যন্ত পিইধারীর শেয়ার বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ বলে জানায় বিএসইসি। অর্থাৎ পিই রেশিও ৪০ এর ওপরে গেলে বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পিই রেশিও যত বাড়বে ঝুঁকির মাত্রা তত বাড়তে থাকবে।
কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২০২৬) দ্বিতীয় প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদনে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে এক টাকা ৩৪ পয়সা। আগের বছরের (২০২৪-২০২৫) একই সময়ে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৭২ পয়সা। চলতি অর্থবছরের দুই প্রান্তিক (জুলাই-ডিসেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে দুই টাকা ৫৮ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই-ডিসেম্বর) শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৯৬ পয়সা। চলতি অর্থবছরে কোম্পানিটির দুই প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ হয়েছে চার টাকা এক পয়সা। আগের অর্থবছর একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ ছিল ৮৭ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৬ টাকা সাত পয়সা।
এর আগে ২০২৪-২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরে (জুলাই-জুন) জন্য সাধারন বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত ২৪ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে। কোম্পানিটির রেকর্ড ডেট ছিল গত ২০ নভেম্বর। ওই অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছিল দুই টাকা ৯ পয়সা। শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ হয়েছিল এক টাকা ৬৬ পয়সা। শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছিল ৫৪ টাকা আট পয়সা। ২০২৫ সালে ৩০ জুন প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি লোন দাঁড়িয়েছিল ১০৮ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। একই সময় স্বল্পমেয়াদি লোন ছিল ৩৩ কোটি ৭৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
২০২৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১২২ কোটি ৩৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা। শেয়ারসংখ্যা ১২ কোটি ২৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৫টি। রিজার্ভে রয়েছে ৪৯৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। গত ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৪০ দশমিক ৭১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৮ দশমিক ২২ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪১ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক