অতিবৃষ্টি ও বজ্রপাতের বিপদ থেকে বাঁচার দোয়া
বৃষ্টি মহান আল্লাহর এক অনন্য নিয়ামত। বৃষ্টির স্পর্শে শুষ্ক প্রকৃতি ফিরে পায় প্রাণ, সজীব হয়ে ওঠে চারপাশ। আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বৃষ্টির পানি গায়ে লাগাতেন এবং তিনি সাহাবিদেরও বৃষ্টির বরকত নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন।
তবে এই রহমতের বৃষ্টিই যখন অতিবর্ষণ বা অনবরত রূপ নেয়, তখন সেটি জনজীবনে ডেকে আনে চরম দুর্ভোগ, জলাবদ্ধতা আর বিপর্যয়। একই সঙ্গে যোগ হয় বজ্রপাতের আতঙ্ক, যা কেড়ে নেয় অসংখ্য তাজা প্রাণ।
নিয়ামত যখন দুর্ভোগে রূপ নেয়, তখন মুমিনের একমাত্র আশ্রয় মহান আল্লাহর দরবার। অতিবৃষ্টির ক্ষয়ক্ষতি ও বজ্রপাতের বিপদ থেকে রক্ষা পেতে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) উম্মতকে বিশেষ কিছু দোয়া ও আমল শিখিয়েছেন। বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জনদুর্ভোগ ও প্রাণহানি এড়াতে সেই দোয়া ও আমলগুলো জেনে নেওয়া প্রতিটি মুসলিমের জন্য জরুরি।
অতিবৃষ্টি থেকে বাঁচার দোয়া
নবীজি (সা.) অতিবৃষ্টি হলে এ দোয়াটি পড়তেন—
اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلاَ عَلَيْنَا، اللَّهُمَّ عَلَى الآكَامِ وَالظِّرَابِ، وَبُطُونِ الْأَوْدِيَةِ، وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা। আল্লাহুম্মা আলাল-আকামি ওয়াযযিরাবি ওয়াবুতুনিল আওদিয়াতি, ওয়ামানাবিতিশ শাজারি। (বুখারী-১/২২৪, মুসলিম-২৬১৪)
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর নয়। হে আল্লাহ উঁচু ভূমিতে, পাহাড়ে, উপত্যকার অঞ্চল ও বনাঞ্চলে বর্ষণ/(প্রবাহিত) করুন।
বজ্রপাতের শব্দ শুনলে যা পড়বেন
আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.) যখন মেঘের গর্জন শুনতেন তখন কথা বলা বন্ধ করে কুরআন মাজীদের এ আয়াত পাঠ করতেন:
يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাযী ইউসাব্বিহুর রাঅদু বিহামদিহি ওয়ালমালাইকাতুন মিন খীফাতিহি।
অর্থ: পবিত্র সে মহান সত্তা যার পবিত্রতার মহিমা বর্ণনা করে তাঁর প্রশংসার সাথে মেঘের গর্জন এবং ফেরেশতাগণও তাঁর মহিমা বর্ণনা করে তাঁর ভয়ে ভীত হয়। (সূরা আর-রা'দ: ১৩)

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক