ওয়ালটন হাই-টেকের এজিএম অনুষ্ঠিত, আর্থিক অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট বিনিয়োগকারীরা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রিক্যাল ও প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড অনুমোদন করা হয়। বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আকর্ষণীয় ডিভিডেন্ড দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
একই সঙ্গে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন শিল্প উদ্যোগের জন্য ওয়ালটন কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানান তারা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের উপস্থিতিতে ডিজিটাল প্লাটফর্মে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ওয়ালটন হাই-টেকের চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম।
ভার্চুয়াল সভায় অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম, পরিচালক এস এম নূরুল আলম রেজভী, এস এম রেজাউল আলম, এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি, তাহমিনা আফরোজ তান্না, রাইসা সিগমা হিমা, সাবিহা জারিন অরনা, নিশাত তাসনিম শুচি ও সাদমান সাকিব দিপ্র, স্বতন্ত্র পরিচালক প্রফেসর সাদিকুল ইসলাম, আখতার মতিন চৌধুরী ও জোহরা বিবি, অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এএমডি) ও চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার জিয়াউল আলম, এএমডি ও হেড অব ইন্টারন্যাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স আবু নাফিস, কোম্পানির সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষক, কর্পোরেট গভর্নেন্স কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিপুল সংখ্যক শেয়ার হোল্ডার। সভা সঞ্চালনা করেন ওয়ালটন হাই-টেকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও কোম্পানি সচিব রফিকুল ইসলাম।
স্বাগত বক্তব্যে ওয়ালটন হাই-টেকের চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম বলেন, সুশাসনের শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনীতির নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা ভালো আর্থিক ফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষায় ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে পরিচালনা পর্ষদ ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেছে। ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী আর্থিক ফল অর্জনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা কাজ করে যাব।
ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভায় যোগদান করে বার্ষিক সাধারণ সভাকে সাফল্যমণ্ডিত করায় কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার, স্টেকহোল্ডারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম সভায় ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনের পাশাপাশি কোম্পানির আর্থিক সূচকের উন্নতি ও ব্যবসায়িক অগ্রগতির লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছর ছিল বৈশ্বিক ও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য পরিবর্তনশীল ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ওয়ালটন ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দক্ষ ব্যয় ব্যবস্থাপনা, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক কৌশল, উদ্ভাবন এবং বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা।
বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে ওয়ালটনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ওয়ালটনের বর্তমান সাফল্যকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনের জন্য নতুন সম্ভাবনা ও দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির পথ তৈরি করতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ব্যবসায়িক পথ চলার শুরু থেকেই দেশের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশিয় শিল্পের বিকাশে কাজ করে যাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি আমদানির নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে নিজস্ব লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ওয়ালটনই বাংলাদেশে সর্বপ্রথম বৃহৎ পরিসরে উন্নতমানের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন করতে যাচ্ছে, যা ইলেকট্রিক ভেহিকেল, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ব্যবহারযোগ্য। এছাড়াও ফুয়েল চালিত জেনারেটরের বিকল্প হিসেবে বাসাবাড়িতে স্টোরেজ পাওয়ার এবং শিল্প কারখানায় এনার্জি স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এই প্রকল্প বাংলাদেশে একটি যুগান্তকারী সবুজ জ্বালানি বিপ্লব হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে। এটি দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও সর্বাধুনিক শিল্প স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে একটি কৌশলগত উদ্যোগ, যা ভবিষ্যতে গ্রিন এনার্জি ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে দেবে এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের মর্যাদাকে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। আর এই সব কিছুর কৃতিত্বের অংশীদার হবেন আপনারা (বিনিয়োগকারীরা)।
এস এম মাহবুবুল আলম আরো বলেন, উদ্ভাবনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের প্রতিও ওয়ালটন দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এরই প্রেক্ষিতে ওয়ালটন কারখানায় দেশের সর্ববৃহৎ ভাসমান বা ফ্লোটিং সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ওয়ালটনের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৬ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে, যা ওয়ালটনের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদার বিশাল অংশ পূরণ করছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে এই সক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ওয়ালটনের অবদান আরও সম্প্রসারণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে ওয়ালটনের এই অগ্রগতি আমাদের সবার জন্যই গর্বের। একই সঙ্গে এটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের পথে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন।
বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণের অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গ্লোবাল ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে ওয়ালটন। ইতোমধ্যে ওয়ালটন CE (সিই), UL (ইউএল), NOM (এনওএম), BIS (বিআইএস) এবং TUV (টিইউভি)-এর মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানসনদ অর্জন করে বিশ্বের ৬৪টি দেশে পণ্য রপ্তানি ও ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে। আমাদের রপ্তানি তালিকায় লিফট এবং ক্যাবলসহ নতুন নতুন পণ্য যুক্ত হচ্ছে। গ্রিন টেকনোলজি-নির্ভর আমাদের উদ্যোগগুলো ওয়ালটন পণ্যের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
সভায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব বিবরণী, নিরীক্ষা প্রতিবেদনসহ ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড অনুমোদনের পাশাপাশি পরিচালকদের প্রতিবেদন, পুনঃনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পুনঃনিয়োগ, কোম্পানির সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষক, কর্পোরেট গভর্নেন্স কমপ্লায়েন্স, চার্টাড সেক্রেটারি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্টের নিরীক্ষক পুনঃনিয়োগ এবং স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে জোহরা বিবির নিয়োগ অনুমোদন করা হয়। পাশাপাশি ওয়ালটন হাই-টেকের রিলেটেড পার্টি ওয়ালটন প্লাজার সাথে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টার্নওভারের বিষয়টি অনুমোদন করা হয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক