বন্ধ শিল্প-কৃষিপণ্যসহ পাঁচ খাতে ব্যবহার হবে ৪১ হাজার কোটি টাকা
দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উৎপাদনশীল খাতকে সহায়তা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত অর্থায়ন প্যাকেজ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই অর্থায়ন প্যাকেজের মধ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য হতে ৪১ হাজার কোটি টাকা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যবহার হবে। এই অর্থ বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতে প্রাক-অর্থায়ন, সিএমএসএমই খাতের উন্নয়ন, কৃষিপণ্য উৎপাদন ও পল্লী অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উত্তরবঙ্গে কৃষি হাব গঠনে ব্যবহৃত হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (এক্স ক্যাডার-প্রকাশনা) ও সহকারী মুখপাত্র ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স এন্ড পাবলিকেশন্সের সাঈদা খানম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাতের তারল্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করার পাশাপাশি উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উৎপাদনশীল খাতকে সহায়তা করার লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত অর্থায়ন প্যাকেজ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ওই অর্থায়ন প্যাকেজের মধ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য হতে ৪১ হাজার কোটি টাকা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যবহারের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ অর্থ বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতে প্রাক-অর্থায়ন, সিএমএসএমই খাতের উন্নয়ন, কৃষিপণ্য উৎপাদন ও পল্লী অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উত্তরবঙ্গে কৃষি হাব গঠনে ব্যবহৃত হবে। অবশিষ্ট ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০টি বিশেষ কর্মসূচিতে অর্থায়ন করা হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ৪১ হাজার কোটি টাকার তহবিলকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, এগুলো হলো-বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের আওতায় ২০ হাজার কোটি টাকা; সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা; রপ্তানি বহুমুখীকরণ খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় তিন হাজার কোটি টাকা; দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ১০ হাজার কোটি টাকা; দেশের উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দু সৃষ্টির লক্ষ্যে তিন হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট প্রথম পর্যায়ে ৭টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এই ব্যাংকগুলো হলো- সোনালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ ও মো. সরোয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক মো. এনামুল করিম খান ও মো. আবুল বসার এবং সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট এন্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. আবদুল মান্নান ও বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ১০টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান করা হয়েছে। এই ব্যাংকগুলো হলো- অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, টুাস্ট ব্যাংক এবং উত্তরা ব্যাংক। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট এন্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. আবদুল মান্নান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
এ অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ আলোচ্য তহবিলের গুরুত্ব ও এর নানামুখী ভূমিকা সম্পর্কে আলোকপাত করেন এবং ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে আলোচ্য তহবিলের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য হতে ৪১ হাজার কোটি টাকার আলোচ্য তহবিল উৎপাদনশীল ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে প্রবাহিত করার পাশাপাশি প্রাক-অর্থায়ন ও পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে তুলনামূলক সাশ্রয়ী অর্থায়ন নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক আশাবাদ ব্যক্ত করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক