আকাশচুম্বী হচ্ছে নিকোটিন পণ্যের দাম, ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের প্রস্তাব
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং মারাত্মক ক্ষতিকর তামাকজাত ও নিকোটিন পণ্যের ব্যবহার তরুণ প্রজন্মের মাঝে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে সরকার এক নজিরবিহীন কর-ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট পেশ করেন।
১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী সরকারের এটি প্রথম বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বাজারে নতুন আসা অত্যন্ত ক্ষতিকর ও আসক্তি ছড়ানো নিকোটিন গ্র্যানুলস এবং নিকোটিন পাউচ আমদানির ওপর নতুন সুনির্দিষ্ট এইচএস কোড সৃজন করে রেকর্ড ৩৫০ শতাংশ উচ্চ সম্পূরক শুল্ক আরোপের এই কঠোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই আমদানিকৃত ক্ষতিকর বিকল্প তামাক পণ্যের ওপর এতো বিপুল কর আরোপের ফলে দেশের বাজারে এগুলোর দাম আকাশচুম্বী হবে, যা মূলত জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এই আসক্তি থেকে মানুষকে দূরে রাখতে এবং দেশে তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।
এবারের প্রস্তাবিত মেগা বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা অংকের দিক থেকে দেশের ইতিহাসের পূর্ববর্তী সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে। নতুন এই বাজেটে সরকারের মূল প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—ব্যবসায়িক সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ব্যাপক বিনিয়োগ ও নতুন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট রূপরেখার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে দ্রুত এগিয়ে নেওয়া।
তামাকবিরোধী সংগঠন ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে সরকারের এই কঠোর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। বাজেট পাসের পরবর্তী সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুন চলতি অর্থবছরের সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট জাতীয় সংসদে পাস হবে। এর ঠিক পরদিন অর্থাৎ ১৬ জুন থেকে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটের ওপর সংসদ সদস্যদের সাধারণ ও বিশদ আলোচনা শুরু হবে এবং দীর্ঘ চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে আগামী ৩০ জুন বহুল প্রতীক্ষিত এই রেকর্ড বাজেট চূড়ান্তভাবে পাস করতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক