আয়কর নির্ধারণে অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের তথ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক
করদাতারা কর্তৃক আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য ও আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর পরিশোধের প্রকৃত তথ্যাদি অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের বিজনেস ইন্টিলিজেন্স (বিআই) সার্ভার হতে সংগ্রহ করে তার ভিত্তিতে আয়কর নির্ধারণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এ লক্ষ্যে গতকাল বুধবার (৪ মার্চ) এনবিআরে আয়কর অনুবিভাগের অধীনস্ত কর অঞ্চলগুলোর জন্য একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। ওই আদেশে আয়কর কর্মকর্তার জন্য অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের বিজনেস ইন্টিলিজেন্স (বিআই) সার্ভার ব্যবহার পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ এ তথ্য জানিয়েছেন।
আল আমিন শেখ জানান, এনবিআর কর্তৃক অডিটের জন্য কর মামলা নির্বাচনকালে বা আয়কর আইন অনুযায়ী পরিদর্শী যুগ্ম/অতিরিক্ত কর কমিশনার কর্তৃক কর মামলা পুনঃউন্মোচনের জন্য অনুমোদন প্রদানকালে অথবা পরিদর্শী রেঞ্জ কর্মকর্তা কর্তৃক ত্রুটিপূর্ণ করাদেশ সংশোধণের আদেশ প্রদানকালে পরিদর্শী রেঞ্জ কর্মকর্তা অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের বিজনেস ইন্টিলিজেন্স সার্ভার হতে সংশ্লিষ্ট করদাতা আমদানিকারক হলে তাঁর আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য ও আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর পরিশোধের প্রকৃত তথ্যাদি সংগ্রহ করে কর নির্ধারণের দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অবহিত করবেন।
কর কমিশনার ও পরিদর্শী রেঞ্জ কর্মকর্তা পূর্ব নির্ধারিত (আইপি বাউন্ডেড) কম্পিউটার হতে অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের বিজনেস ইন্টিলিজেন্স সার্ভার এ লগ-ইন করতে পারবেন। ওই সার্ভারে লগ-ইন করে করদাতার আমদানি সংক্রান্ত যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে পরিদর্শী রেঞ্জ কর্মকর্তাকে তার তথ্যাদি সুনির্দিষ্ট রেজিস্টারে নিয়মিতভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে। প্রাথমিকভাবে কর নির্ধারণী কর্মকর্তাকে অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের বিজনেস ইন্টিলিজেন্স সার্ভার হতে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের সুবিধা না দিয়ে পরিদর্শী রেঞ্জ কর্মকর্তার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের বিজনেস ইন্টিলিজেন্স সার্ভার হতে তথ্য সংগ্রহের সুবিধা- আয়কর মামলা নিষ্পত্তিকালে করদাতাগণ কর্তৃক আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণ, আমদানি মূল্য ও আমদানি পর্যায়ে সংগৃহীত অগ্রিম আয়করের প্রকৃত তথ্য সিস্টেম থেকে অতি সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে; সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নির্ভুল প্রক্রিয়ায় আমদানি পর্যায়ে সংগৃহীত অগ্রিম আয়কর ক্রেডিট দেওয়া যাবে; কর ফাঁকি রোধের মাধ্যমে কর আদায় বৃদ্ধি পাবে; আয়কর মামলা নিষ্পত্তি দ্রুততর হবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে; আয়কর ফেরত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, সহজ ও দ্রুত হবে।
এনবিআর কর্তৃক গৃহীত এ উদ্যোগ কাস্টমস ও আয়কর বিভাগের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের নতুন যুগের সূচনা করেছে। এ কার্যক্রম সফল হলে কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বিধায় ব্যবসায়ী অহেতুক হয়রানি কমে পাবে বলে জানান এনবিআর।

নিজস্ব প্রতিবেদক