সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ১৩ হাজার আমানতকারীর টাকা ফেরত
পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গত দুই দিনে ১৩ হাজার ৩১৪ জন আমানতকারীর টাকা ফেরত দিয়েছে। ফেরত দাওয়া আমানতের পরিমাণ ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কনফারেন্স হলে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকটির গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১৯ জানুয়ারি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম চালু হবে বলে জানান ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক চালুর পর প্রথম দুই দিনে আমানতকারীদের মধ্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়নি জানিয়ে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, এই দুইদিনে ব্যাংকটি থেকে ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উত্তোলনের বিপরীতে ৪৪ কোটি টাকা নতুন আমানত এসেছে। এটি আমানতকারীদের আস্থার প্রতিফলন।
গভর্নর বলেন, আমরা কাউকে (কর্মকর্তা) ছাঁটাই করতে চাই না। তবে কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে ছাড় দেব না। এই পাঁচ ব্যাংকে আমরা ফরেনসিকের আওতায় আনতে যাচ্ছি।
নতুন একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ সময় লাগে জানিয়ে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে মাত্র দুই মাসের মধ্যেই লেটার অব ইনটেন্ট, ক্যাপিটালাইজেশন, সাইনবোর্ডসহ লেনদেন শুরু করা সম্ভব হয়েছে। নতুন করে প্রণীত ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিনেন্সের আওতায় ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিনেন্স অনুযায়ী ইতোমধ্যে রেজুলেশন স্কিম জারি করা হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুসারে আমানতকারীদের সঙ্গে ব্যাংকের লেনদেন চলছে। নতুন বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে সরকারি প্রতিনিধিদের দিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই স্বতন্ত্র পরিচালকসহ একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, একজন ব্যাংকার ও একজন আইন বিশেষজ্ঞ যুক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠিত হবে।
দুদিনের লেনদেন প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ১ ও ৪ জানুয়ারি মোট দুই কর্মদিবসে ১৩ হাজার ৩১৪ আমানতকারী টাকা উত্তোলন করেছে। এতে উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি উত্তোলন হয়েছে এক্সিম ব্যাংক থেকে। ব্যাংকটি থেকে ছয় হাজার ২৬৫ জন আমানতকারী ৬৬ কোটি টাকা তুলেছেন। একই সময়ে নতুন করে ৪৪ কোটি টাকা আমানত জমা পড়েছে। কোথাও কোথাও উত্তোলনের চেয়ে আমানতের পরিমাণ বেশি ছিল।
গভর্নর আরও বলেন, এটি প্রমাণ করে, গ্রাহকদের নতুন ব্যাংকের প্রতি আস্থা রয়েছে। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে জনগণ বিশ্বাস রাখছে।
সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে জানিয়ে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, একটি হলো সমন্বিত আইটি সিস্টেম চালু করা, যেটির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি টিম কাজ করছে। অন্যটি হলো পাঁচটি ব্যাংকের অতীত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক অডিট। তবে একইসঙ্গে দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তারা যেন নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। শরিয়াহভিত্তিক মুনাফার হার বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান ও নতুন পণ্য একীভূত করে গ্রাহকদের জন্য নতুন শরিয়াহসম্মত প্রোডাক্ট চালু করা হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক