পূর্বাচলে শুরু হলো বাণিজ্য মেলা
৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ) উদ্বোধন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিসিএফসি) এ মেলা উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে মেলার উদ্বোধন দুই দিন পিছিয়ে ১ জানুয়ারির পরিবর্তে আজ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ঘোষণা করেন, ২০২৬ সালের জন্য ‘পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রোডাক্টসকে’ ‘প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ বা বর্ষপণ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাণিজ্য মেলা নিছক পণ্যের প্রদর্শনী নয়, এটি বাংলাদেশের নতুন নতুন উদ্ভাবন এবং বাণিজ্যিক সক্ষমতার প্রতিফলন। এটি আমাদের ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী করতে এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করবে।
এবারের মেলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো পরিবেশ সুরক্ষায় কঠোর অবস্থান। মেলায় পলিথিন ব্যাগ ও একবার ব্যবহারযোগ্য (সিঙ্গেল ইউজ) প্লাস্টিক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর বিকল্প হিসেবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হ্রাসকৃত মূল্যে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্টুরেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি এবারই প্রথম ছাড়কৃত মূল্যে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ‘পাঠাও’ যুক্ত হয়েছে। এছাড়া মেলায় প্রবেশের জন্য ই-টিকিটিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেখানে দর্শনার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে টিকিট কিনে কিউআর কোড স্ক্যান করে সরাসরি মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা আরও জানান, এলডিসি গ্রাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ ও নতুন বাজার অন্বেষণে এ ধরনের মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ১৯৯৫ সাল থেকে শেরেবাংলা নগরে শুরু হওয়া এই মেলা ২০২২ সাল থেকে পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যুতে আয়োজিত হয়ে আসছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক