‘বেসরকারি শিল্পের উন্নয়নে কম সুদের ফান্ড গঠন জরুরি’
মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলের (এমডিজি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেসরকারি শিল্পের উন্নয়নের বিকল্প নেই। এ খাতের উন্নয়ন ও প্রসারে কম সুদের আলাদা তহবিল গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি হোসেন খালেদ। মঙ্গলবার ডিসিসিআই আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে ঢাকা চেম্বার মিলনায়তনে তিনি এ কথা বলেন।
সেমিনারে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব আশাব্যঞ্জক নয়। বার্ষিক ১২% প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ প্রতিবছর গড়ে ১.২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করে থাকে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’
হোসেন খালেদ জানান, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) উল্লেখিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের প্রায় ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে এবং এক্ষেত্রে দেশের বেসরকারি খাতকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের বেসরকারি খাতের বিকাশ ও শিল্পায়নের স্বার্থে স্বল্পসুদের টেকসই উন্নয়ন ফান্ড গঠন জরুরি মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক-বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এমডিজির লক্ষ্য অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। এসডিজির অর্জনেও বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করবে।’
ড. গওহর রিজভী আরো বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থানে বাংলাদেশ অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের উচিত ভারত ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণ করা, যার ফলে বাণিজ্য বৈষম্য অনেকাংশে হ্রাস পাবে। দেশের অবকাঠামো খাত উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে যা চলমান থাকবে।’ দেশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বেসরকারি খাতকে আরো বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ‘বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের বিনিয়োগের পরিবেশ আরো উন্নত করতে হবে। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ ইউরোপসহ অন্যান্য উন্নত দেশে ডিউটি ও কোটা ফ্রি সুবিধা ভোগ করে থাকে।’ এ সুবিধা ভোগ করে বিদেশি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে আরো বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবরার এ আনোয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের বর্তমানে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থের সম্পদ রয়েছে। আমরা বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী।’ তিনি বাংলাদেশের দারিদ্র্যবিমোচনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের (বিওআই) নির্বাহী সদস্য নাভাস চন্দ্র মণ্ডল । তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ১০% হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং ২০১৫ সালের মধ্যে রপ্তানি আয় ৩১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ বজায় থাকার ফলে গত এক দশকে ৬% হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।’
নাভাস চন্দ্র মণ্ডল আরো বলেন, ‘আমাদের রয়েছে শক্তিশালী স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এবং কঠোর পরিশ্রমী ও উদ্যোগী উদ্যোক্তা শ্রেণী। আগামী ১৫ বছরে ১০০টি অর্থনৈতিক জোন স্থাপন করা হবে, যা থেকে ১০ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং রপ্তানি আয় আরো ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পাবে।’
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা শিল্প খাতে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সেবাগুলোর সংযোগ নিশ্চিতকরণ, করপোরেট ট্যাক্স কমানো, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বিদেশে বাংলাদেশের ইমেজ বাড়ানোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এ ছাড়া বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, ব্যবসা সম্পর্কিত নীতিমালার সহজীকরণের কথা বলেন। জাহাজ নির্মাণ, কৃষিজাত পণ্য, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতের প্রতি আরো বেশি মনোযোগী হওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা