ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে মিয়ানমারে
মিয়ানমারে কেনাকাটায় অর্থ পরিশোধে বিভিন্ন কার্ড যেমন—ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে। আগামী কয়েক মাসে এর ব্যবহার আরো বাড়বে বলে আশা করছে দেশটির এক মাত্র ইলেকট্রনিক কার্ড সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান মিয়ানমার পেমেন্ট ইউনিয়ন (এমপিইউ)।
গতকাল শুক্রবার মিয়ানমার টাইমসের অনলাইনে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমপিইউ এরই মধ্যে বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ও সুপারশপগুলোর সাথে চুক্তি করেছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটায় কার্ডের মাধ্যমে পাওনা মেটাতে গ্রাহকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
এমপিইউ চেয়ারম্যান ইউ মিয়া থান বলেন, ২০১২ সালে এমপিইউ তৎপরতা শুরু করলে কার্ডের ব্যবহার ধীর গতিতে এগোয়। সম্প্রতি এর ব্যবহার বাড়ছে। গত সেপ্টেম্বরে মিয়ানমারে ৪ কোটি কিয়াট বা ২৪ লাখ টাকা কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। তবে গত অক্টোবরে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৭ কোটি কিয়াট বা ৪২ লাখ টাকা।
খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন অনেক বেড়েছে বলে জানান মিয়া থান।
মিয়ানমারের বৃহত্তম সুপার মার্কেট গ্রুপ সিটি মার্ট হোল্ডিং গত এপ্রিলে এমপিইউর সাথে চুক্তি করে। কোম্পানিটি তাদের ২০টি আউটলেটের ৭টিতে কার্ডের মাধ্যমে পাওনা মেটানোর সুযোগ দিচ্ছে।
গত মাসে ক্যাপিটাল ডায়ামন্ড স্টার গ্রুপ প্রথম বারের মতো তাদের ক্যাপিটাল হাইপারমার্কেটর দোকানগুলোতে কার্ড ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
সিটি মার্টের মুখপাত্র দ্য খিন মে দে বলেন, তাদের গ্রুপ সব শাখায় ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করছে। শিগগিরই তারা কার্ড ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে পারবে। যেসব এমপিইউ কার্ডধারী গ্রাহকরা কার্ডে লেনদেন বাড়িয়েছে, তবে তা মোট লেনদেনের তুলনায় খুব কম।
দ্য খিন মে দে বলেন, সিটি মার্ট অন্য কার্ড গ্রহণের প্রস্তাব করছে। সম্প্রতি তাদের তিনটি দোকানে ভিসো ও মাস্টার কার্ড অনুমোদন করেছে।
মিয়া থান বলেন, ‘আমরা সমাজ থেকে সম্পূর্ণভাবে নগদ লেনদেনের প্রচলন দূর করতে চেষ্টা করছি। কিন্তু সেজন্য কিছু গ্রাহক ও খুচরা বিক্রেতা এখানো তৈরি হয়নি।’
নরওয়ের টেলেনর কাতারের উরেদু ও জাপানের কেডিডিআই এরই মধ্যে মিয়ানমারে তাদের সংযোগের উন্নয়ন করেছে বলে জানিয়েছেন মিয়া থান।
মিয়ানমারে বর্তমানে মোট ১২ লাখ কার্ড ব্যবহারকারী রয়েছেন, তবে তা মোট জনসংখ্যার মাত্র দশ শতাংশ।
২০১২ সালের অক্টোবর থেকে ইয়াঙ্গুন, মান্দালায় ও নেওয়া পি টাও-তে কিছু প্রতিষ্ঠানে কার্ড ব্যবহারের ব্যবস্থা ছিল। এই তিন নগরে প্রথম দিকে ২০০টি প্রতিষ্ঠানে কার্ড ব্যবহার করা যেত। তবে এখন প্রায় তিন হাজার প্রতিষ্ঠানে কার্ড ব্যবহার করা যায়। আগে এসব স্থানে ২০টি এটিএম বুথ ছিল। বর্তমানে মোট এটিএম বুথের সংখ্যা ১৬০০টি।
চলতি বছর মে মাস থেকে দেশটির বিভিন্ন ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের প্রস্তাব করে। তবে ২০১১ সাল থেকে ডিবেট কার্ড ব্যবহার হয়ে আসছে দেশটিতে। আর ১৫টি ব্যাংকের বুথে এমপিইউ কার্ড গ্রহণ করা হয়।
সম্প্রতি যৌথ ব্র্যান্ডের কার্ড বাজারে ছাড়তে জাপানের ক্রেডিট ব্যুরো ও চাই না ইউনিয়ন পে-র সাথে চুক্তি করেছে এমপিইউ। এই মাসের শেষ দিকে নতুন এ কার্ড বাজারে আসবে বলে আশা করছেন মিয়া থান।

অর্থনীতি ডেস্ক