শরীয়তপুরে পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস
পদ্মার ভাঙনে শরীয়তপুরের নড়িয়ার সুরেশ্বরে ধসে গেছে তীর রক্ষা বাঁধের ৫০ মিটার অংশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নদীতে বিলীন হয় বাঁধের এই অংশ।
ভাঙন আতঙ্কে অন্তত ১৪টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিয়েছে স্থানীয়রা। হুমকির মুখে রয়েছে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। পানি বৃদ্ধিতে সৃষ্ট তীব্র স্রোতে নদীর তলদেশ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এই ভাঙন বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ভাঙন ঠেকাতে চলছে জরুরি জিও ব্যাগ ডাম্পিং।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুরেশ্বর লঞ্চঘাট ও মাছঘাট এলাকায় ফাটল ধরা বাঁধের অংশে ধস শুরু হয়। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ১০টা পর্যন্ত বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বাঁধ ধসের খবর ছড়িয়ে পড়লে সুরেশ্বর লঞ্চঘাট ও মাছের আড়তের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট এবং মূল্যবান মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করে। নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
শরীয়তপুর পাউবো জানায়, ২০২৩ সালে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর মাছঘাট থেকে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে পাউবো। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৪০৩ কোটি টাকা।
সুরেশ্বর লঞ্চঘাট ও মাছঘাট এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। নৌপথে যাতায়াতের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এখানে মাছ কিনতে আসেন। লঞ্চঘাট ও মাছের আড়তকে কেন্দ্র করে এলাকায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, খাবারের হোটেলসহ নানা স্থাপনা।
স্থানীয়রা জানায়, গত বুধবার হঠাৎ সুরেশ্বর লঞ্চঘাট এলাকায় তীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশে ফাটল দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলার প্রস্তুতি নেয় পাউবো। তবে প্রস্তুতি শেষ হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফাটল ধরা অংশে ধস শুরু হয়। পরে ধীরে ধীরে বাঁধের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদ হোসেন, নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান এবং শরীয়তপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মিল্টন হোসেন।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ বলেন, ‘এক ইঞ্চি মাটিও যেন পদ্মায় বিলীন না হয়, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং শুরু করেছে পাউবো।
শরীয়তপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মিল্টন হোসেন বলেন, সুরেশ্বর মাছঘাট এলাকায় নদীর তীররক্ষা বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ার পর পরই জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফাটল ধরা অংশে ভাঙন শুরু হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিং অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

আব্দুল আজিজ শিশির, শরীয়তপুর